আনন্দ

বেশ কিছুদিন আগে আমার ছাত্রদের সম্পর্কে লিখেছিলাম। আমাদের ইনস্টিটিউটে কয়েকবার আন্তর্জাতিক স্কুল হয়। এবার সত্তর জন মত এসেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা, ইজিপ্ট, ভিয়েতনাম ও সার্বিয়া থেকে। আমার কাছে স্ত্রাহিনা আর ব্রনিস্লাভ এসেছিল সার্বিয়া থেকে, বাসেল মিশর থেকে। যখন শুনলাম ওদের দুজন প্রোগ্রামার, আরেকজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হতে চলছে তখন একটু হতাশ হয়েছিলাম এই ভেবে যে শুধু শুধু সময় নষ্ট হবে। কেননা কসমোলজির উপর কাজ করার জন্য ন্যুনতম যে বিষয়গুলো জানা দরকার সেটা ওদের নেই। তবে বললাম, যদি তোমাদের জানার আগ্রহ থাকে এরপরও অনেক কিছুই শিখতে পারবে। আইনস্টাইন সমীকরণ দিয়ে শুরু করলেও মাঝে নিউটনের সূত্র ব্যবহার করে এসব কিভাবে পাওয়া যায় সেটা বললাম। বাসেল প্রায়ই ক্লাশ ফাঁকি দিত। তবে স্ত্রাহিনা আর ব্রনিস্লাভ খুব পাঙ্কচুয়াল। গতকাল ছিল ওদের শেষ দিন। এদিন কাজের উপর প্রেজেন্টেশন করতে হয়। তিন জন মিলে দশ মিনিটে বলতে হবে। তিন জনকেই বললাম আলাদা আলাদা প্রেজেন্টেশন তৈরি করতে। ব্রনিস্লাভ খুব ডিটেইল্ড এক প্রেজেন্টেশন তৈরি করল। সমস্যার চমৎকার স্টেটমেন্ট। মাঝে মাঝে রিমার্ক। ভিক্তর বলল প্রোগ্রামাররা এভাবেই লেখে। আমার জন্য শিক্ষনীয়। বাসেল ততটা ডিটেইল্ড নয়, তবে ও যে প্রোগ্রামার সেটা টের পাওয়া যায়। অন্যদিকে স্ত্রাহিনার প্রেজেন্টেশন বেশ ছোট। এবং কোন মডেল ভালো কাজ করে তার উপর জোর দিয়ে করা। ভিক্তর বলল ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য কাজ করে কিনা সেটাই আসল। পরশু ওরা দায়িত্ব ভাগ করে নিয়ে রিহার্সাল দিল। ১৫ মিনিট। কোথায় কোথায় সংক্ষিপ্ত করতে হবে জানিয়ে ১০ মিনিটে করতে বললাম আর বললাম দ্রুত বলার দরকার নেই। যাতে লোকজন বুঝতে পারে সেভাবে বলা। গতকাল ওদের রিপোর্টের আগে এসে জানালো ৯ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড। ওদের মুখে ছিল বাচ্চাদের মত আনন্দ। হ্যাঁ, ১০ মিনিটে শেষ করল। সবাই খুব ভালো করেছে। সত্যি বলতে কি আমি ওদের নিয়ে যারপরনাই খুশি। আসলে ইয়ং লোকজন মানে ছাত্রছাত্রীরা যখন আসে, ওরা আসে খোলা মনে। কিছু শেখার জন্য। কিন্তু শিক্ষক বা পিএইচডি স্টুডেন্ট এলে তারা পাবলিকেশনের জন্য পাগল হয়ে পড়ে যদিও তিন সপ্তাহে সেটা সম্ভব নয়। খুব ভালো লাগলো জেনে যে ওরা প্রজেক্টটি খুব এনজয় করেছে। ও হ্যাঁ, ওরা সেলফি তুলতে চাইল। কি আর করা!

দুবনা, ০৯ অক্টোবর ২০২৬


স্ত্রাহিনা, বাসের, ব্রনিস্লাভ, আমি ও ভিক্তর

Comments

Popular Posts