ভালোবাসা
গতকাল মস্কো যাবার সময় সেভার মেসেজ পেলাম। পাঁচ লিটার বোর্শ রান্না করেছে। লিখল মাংস সহ সমস্ত উপাদানে খরচ মাত্র ৯০০ রুবল। রেডিমেড কিনলে এক লিটারের দাম ৪০০ রুবল। যাক সেভা অনেক দিন পরে রান্না করছে দেখে ভালো লাগলো। একসময় পুষ্টিকর খাদ্য খাবে বলে নিজেই রান্না করত। এখন মনিকা বা মিশা রান্না করলে খায় না হলে ফাস্টফুড। আমি লিখলাম
- তা এত বোর্শ একবারে করলি কেন? অর্ধেক পরে করলেই তো পারতি।
- প্রায় ঘন্টা চারেক সময় লাগে। এত ধৈর্য্য কোথায়?
বাসায় ঢুকতেই তাইনা লেজ নাড়িয়ে কুই কুই করে আমাকে স্বাগত জানাল। ওর জন্যে সাধারণত গাজর নিয়ে আসি। আজ আস্ত মুরগি সেদ্ধ করে সেটা শুকিয়ে ওর জন্য নিয়ে এসেছি। খুব খুশি। এক টুকরো শেষ হতে না হতে পেছনের দুই পায়ে দাঁড়িয়ে দুই হাত নাড়তে শুরু করে - যেন বলে আরও মুরগি আরও মুরগি চাই।
সেভা খুব বেশি দিতে মানা করল। আমি বড় এক বাটি বোর্শ খেলাম। খুব সুস্বাদু।
আমি মস্কো এলে তাইনা আমার সাথে ঘুমায়। পায়ের কাছে সেই যে কুণ্ডলী পাকিয়ে শুয়ে পড়বে সেভার শত ডাকেও নড়বে না।
সকালে উঠে গেলাম পরীক্ষা নিতে। সকালেও বোর্শ দিয়েই ব্রেকফাস্ট সেরে নিলাম। সেভা জিজ্ঞেস করল
- বোর্শ কি শুক্রবার পর্যন্ত ঠিক থাকবে?
- ফ্রিজে রাখতে পারিস।
- তাতে তো স্বাদ নষ্ট হয়ে যাবে। মামা শুক্রবার আসবে বলল।
সন্ধ্যায় যখন দুবনার দিকে রওনা হচ্ছি, সেভা একটা বয়াম ভরে বোর্শ দিল গুলিয়ার জন্য।
অনেক সময় মনে হয় ছাত্ররা না থাকলেও শুধু গুলিয়া আর বাচ্চাদের মধ্যে এসব ভালোবাসা আদান-প্রদান করার জন্য হলেও আমাকে দুবনা মস্কো করতে হত।
দুবনার পথে, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

Comments
Post a Comment