প্রাচুর্য না রোগ

বেশ কয়েক বছর নববর্ষে আমি সাধারণত তৈরি খাবার কিনি। কারণ বাসায় করলে বেশি করা হয় আর সেসব নষ্ট হয়। দোকানে কিনলে ঝামেলা কম আর নষ্ট কম হয়। আগে অবশ্য সব বাসায়ই হত। ছেলেমেয়েরা সবাই মিলে হাত লাগিয়ে কাজ করতাম। কয়েক বছর হয় অবশ্য মনিকা, ক্রিস্টিনা, সেভা মস্কোয় এক সাথে পালন করে, আন্তন অল্প সময়ের জন্য আমাদের এখানে আসে আর আমি ০১ তারিখ রাতে বা ০২ তারিখ সকালে মস্কো চলে যাই সেভার জন্মদিন পালন করতে। এবার সবাই যে যার মত। মনিকা চলে গেছে মিশার ওখানে ওর বাবা মার সাথে নববর্ষ পালন করতে। সেভা লিখল ও দোকান থেকে বিয়ার, নারকেল আর কিসব ফল কিনে এনেছে। মনিকা লিখল ও সেভার জন্য কয়েকটা সালাদ আর কেক বুকিং দিয়েছে। ক্রিস্টিনা গেছে ওর বান্ধবীর বাসায় - তালদম বলে দুবনার পাশে এক শহরে। আমাকে ৩ হাজার রুবল পাঠাতে বলল খাবার আর শ্যাম্পেনের জন্য। আন্তন বলেছে আসবে না। তাই এবার নিজেদের রান্না বান্না করার কোন কারণ ছিল না। 

এবার গুলিয়া বলল ও নিজেই সালাদ করবে আর কাটলেট। আমাকে শুধু গ্রীক সালাদ করতে হবে টোম্যাটো, শশা, কাপসিকাম এসব দিয়ে। আমি সাধারণত কাজ করি চুপচাপ, কাউকে জানতে না দিয়ে। গুলিয়া কিছু করা মানেই সারা বাড়ি টের পাওয়া। এটা সরাও, ওটা সরাও। দিনের শেষ দেখলাম ঐটুকু সালাদ করতে গিয়ে আমাকে শুয়োর, গরু, মুরগি মিলে আট কেজি মাংস, কেজি দুই আলু, কেজি খানেক পেঁয়াজ, রসুন কাটতে হল, ডজন খানেক ডিমের খোসা ছাড়াতে হল। 

সব হলে অর্ধেকের বেশি ফ্রিজে ঢুকে গেল। গুলিয়া বলল ওসব আমাকে মস্কো নিয়ে যেতে বাচ্চাদের জন্য। এরপরেও টেবিল খাবারে ভর্তি। কোন ভাত বা রুটি নেই। শুধু মাংস, মাছ, সসেজ আর বিভিন্ন ধরণের ম্যারিনেড বা সল্টেড জিনিসপত্র। ইদানিং আমার এসব খাওয়া বারণ না হলেও সীমিত। এখন মনে হচ্ছে সারা বছরের ডোজ এক দিনেই কমপ্লিট। 

এখন ভাবছি এভাবে শুরু করে বছর প্রাচুর্যে কাটবে না অসুখে?

গুলিয়া অবশ্য খুশি যে পরবর্তী এরকম অনুষ্ঠান ০৮ মার্চ। এই সুযোগে একটু ওজন কমানো যাবে। তারপর একটু ভেবে বলল, সামনে ০৭ জানুয়ারি ক্রিস্টমাস, ১৩ তারিখে পুরানো নতুন বছর আর ২৩ ফেব্রুয়ারি ছেলেদের দিন (আসল নাম দেশ রক্ষী দিবস, লোকে বলে পুরুষ দিবস - যেদিন মেয়েরা ছেলেদের ট্রিট করে, উপহার দেয়)। তাই নাকি ওর আর ওজন কমানো হবে না। আমিও বললাম, "স্বর্গের প্লেনে ওভার ওয়েট নেয় না, নরকের ট্রেন মাল গাড়ির মত, সব নিয়ে যায়।"

দুবনা, ০১ জানুয়ারি ২০২৬


Comments

Popular Posts