ভালোবাসা
মস্কো থেকে দুবনা ফিরছি। বাসায় পৌঁছুতে দুপুর দুটো, বেরুলাম ছয়টার দিকে। আজ সেভার জন্মদিন। তাই আসা। সাথে গুলিয়ার করা কাটলেট আর নববর্ষ উপলক্ষ্যে এদের বিখ্যাত সালাদ অলিভিয়ে বা স্তালিচনি। বাসায় ঢুকে দেখি মনিকা আর মিশা ঘুরতে যাচ্ছে। সেভা বন্ধু স্তপার সাথে আড্ডা দিচ্ছে। খাবারগুলো এখনও ফ্রোজেন। কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। ক্রিস্টিনা জানাল ও তালদম থেকে দুবনা যাচ্ছে মায়ের সাথে দেখা করতে। রাতে মস্কো ফিরবে।
আমি মস্কো এলে ক্রিস্টিনার ঘরে থাকি। তাই লিখলাম তাহলে আমি দুবনা ফিরে যাই। ও চাইলে কাল আবার আসব।
- আজ থেকে গেলেই তো পার। মিছেমিছি টিকেটের পেছনে এতগুলো টাকা খরচ করবে?
- বাবা এখন সিনিয়র সিটিজেন। পয়সা লাগে না।
- দেখ যেটা ভালো বোঝ।
সেভাকে জিজ্ঞেস করলাম কিছু কিনতে হবে কি না। তারপর দোকান থেকে টুকিটাকি কিনে আনলাম। এর মধ্যে মনিকারা ফিরে এল। কিছুক্ষণ পরে বেরুব বলে সেভা স্যান্ডউইচ আর চা করে দিল। তাইনা আর ইরিসকা ঘুরঘুর করছে ওদের ভাগের জন্য। তৈরি হয়ে বললাম
- কাল বা পরশু আসব ক্রিস্টিনার সাথে দেখা করতে।
- তাহলে তো থেকে গেলেই পার।
- না রে। কাল বরং আসব।
- তুমি কি শুধু খাবার দেবার জন্য এসেছিলে এতক্ষণ জার্নি করে?
- আমার তো ভালোই লাগে। এই সময় অনেক কিছু পড়া যায়।
- দেখ যা ভালো মনে কর।
মনে মনে বললাম ছেলেমেয়ে হোক তখন দেখবি এসব জার্নি গায়ে লাগবে না।
ট্রেনে উঠে নিজের পরিচিত সিটে বসলাম। কেমন যেন ঠান্ডা লাগছে। ভাবলাম দরজা বন্ধ করলেই ঠিক হয়ে যাবে। ট্রেন চলতে শুরু করল। চেকার টিকেট চেক করে বললেন
- এই বগি গরম করা হচ্ছে না। আপনি কি টের পাচ্ছেন না?
- একটু ঠান্ডা লাগছিল। ভাবলাম দরজা খোলা বলে।
- না, সিস্টেমে সমস্যা। আপনি দ্বিতীয় বগিতে চলে যান। না হলে দুবনা যেতে যেতে জমে যাবেন।
মজার ব্যাপার হল বেশ ঠান্ডা লাগার পরও আমার মনে হয়নি বগি গরম করা হচ্ছে না। নব্বইয়ের দশকে, এমনকি শূন্যের দশকে এমনটা হোত। এখনও যে এরকম হতে পারে কল্পনায় আসেনি।
দুবনার পথে, ০২ জানুয়ারি ২০২৬

Comments
Post a Comment