সভ্যতার বিড়ম্বনা
ব্রেকফাস্ট হোটেল থেকে দেয়। হেল্প ইয়োরসেল্ফ। মানে যত খুশি তত খাও। তাই বেশ সময় নিয়ে পেট ভরে খেয়ে কনফারেন্সে যাই। দুপুরে খাই কোন ক্যাফেতে। কাজানে এলে আমি সাধারণত ঘোড়ার মাংস খাই। মস্কোয় এসব মেলে না তাই। কনফারেন্স থেকে বেরুতে বেরুতে রাত আটটা। সের্গেই আর কাতিয়াকে জিজ্ঞেস করলাম খেতে যাবে কিনা। ওরা আমার কনফারেন্স বন্ধু। ওরা মস্কোয় কাজ করে। সের্গেই অবশ্য দুবনা থেকে। ওর দাদু নামকরা পদার্থবিদ। তাঁর নামে দুবনায় রাস্তা আছে। এখন অবশ্য ওরা দুবনার পাট মিটিয়ে ফেলেছেন। আমার সাথে দেখা হয় শুধু কনফারেন্সে। এই কয়দিন আমরা এক সাথে চলি। ওরা তেমন আগ্রহ দেখাল না আর আমারও খুব একটা ইচ্ছা ছিল না। তাই দোকানে গেলাম ছানা, ইয়োগার্ট আর চকলেট কিনতে। এসব কিনে গল্প করতে করতে তিন জন হোটেলে ফিরলাম। ওরা ওদের রুমে চলে গেল, আমি আমার। ফ্রেশ হয়ে খাব তখন মনে হল চামচ বা ঐ জাতীয় কিছুই নেই। সাধারণত সাথে আনি, এবার কি ভেবে আনিনি। নীচে গিয়ে রেস্টুরেন্টে থেকে নিয়ে আসা যেত। কিন্তু কে আবার জামা কাপড় পরে? কী করা? ছানার প্যাকেটের ঢাকনা চামচ বানিয়ে খেয়ে ফেললাম। নিজের উপস্থিত বুদ্ধি দেখে একটু গর্ব বোধ করলাম। খাওয়া যখন শেষ তখন মনে হল দেশে থাকতে কত সহজে হাত দিয়ে এসব খেয়ে ফেলতাম। একেই বলে সভ্যতার বিড়ম্বনা।
কাজান, ২৬ নভেম্বর ২০২৪

Comments
Post a Comment