সুখ দুঃখ
কিছু দিন আগে সেভার সাথে যখন ঘুরতে গেলাম হঠাৎ ও বেহালার কথা বলল। বলল - পাপ তুমি জানতে আইনস্টাইন বেহালা বাজাতেন? আমার আবার বেহালা বাজাতে ইচ্ছে করছে।
- ভালো তো। শুরু কর।
ও এক সময় বেহালা আর পিয়ানো বাজানো শিখত। ওর শ্রবণশক্তি শতভাগ। তাই খুব সহজেই ক্লাসের কাজ শেষ করত। শিক্ষকরা খুব আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু একসময় এসব বাদ দেয়। তখন কিছু বলেনি। সেদিন বলল শিক্ষকদের সাথে পড়ত না। যাই হোক গুলিয়ার ধারণা আমার প্রশ্রয়, বিশেষ করে ওকে ফুটবল খেলার অনুমতি দেবার জন্য ও মিউজিক বাদ দিয়েছে। মাঝে সব সময় হেভি মেটাল, ব়্যাপ এসব শুনত সারাদিন। কয়েক মাস হল অনবরত ক্ল্যাসিকাল মিউজিক শোনে। বিশেষ করে বেটোভেন, শোপেন এসব খুব পছন্দ করে। যাহোক আমি সেভা যে আবার বেহালা বাজাতে চায় সেটা গুলিয়াকে বলিনি। এরপর একদিন লিখল ও স্ট্রিং কিনেছে। আমি সাথে সাথে টাকা পাঠিয়ে দিলাম। কিছুক্ষণ পরে ফোন করল। বলল ইউ টিউব দেখে নিজেই স্ট্রিং বদলিয়েছে। বাজিয়ে শোনাল। আমি গুলিয়াকে ফোনটা দিলাম।
সেভা বেহালা বাজাচ্ছে। ও শুনছে। এরপর শুরু হল বিভিন্ন উপদেশ
-তোর স্কুলে যাওয়া দরকার। রাউল গিওর্গিয়েভিচের সাথে কথা বল।
এরপর আমাকে উদ্দেশ্য করে
- সব তোমার জন্যে। ফুটবল খেলার জন্য উৎসাহ না দিলে আজ ও কোন অর্কেস্ট্রায় বাজাত।
আজ মস্কো এলাম কাজান যাব বলে। এর আগে একসাথে ঘুরতে গেলাম।
- মামা যাই বলুক আমি কিন্তু ভায়োলিন পেশা হিসেবে নেব না। আমার বাজাতে ভালো লাগে। এটা হবি।
- আসল কথা ভালো লাগা। আর যদি ভালো ভাবে শিখতে পারিস তাহলে পেশা হলেই বা সমস্যা কি? এই যে ফিজিক্স - এটা আমার নেশার মত। এটা যদি আমাকে কিছু পয়সা উপার্জনে সাহায্য করে সমস্যা কোথায়? উল্টো এটা ভালো। যা করে আনন্দ পাস সেটা তোকে পয়সা দিচ্ছে। আগে ভালো করে শেখ পরে ভেবে দেখবি কি করবি।
আমি রান্না করতে গেলাম। সেভার ঘর থেকে ভেসে আসছে বেহালার সুর। এক সুখানুভূতি আমাকে আচ্ছন্ন করে ফেলল। ভাবলাম রেকর্ড করে গুলিয়াকে পাঠাই। আবার ভাবলাম কী লাভ। ওর বরং মন খারাপ হবে সেভা প্রায় শেষের দিকে মিউজিক ছেড়ে দিল বলে।
আমরা বাবা-মায়েরা সন্তানদের পেশাদার দেখতে চাই। অথচ পেশা না হয়ে কাজ যদি নেশা হয়ে উঠত কী ভালোই না হত।
কাজানের পথে, ২৪ নভেম্বর ২০২৪

Comments
Post a Comment