হঠাৎ দেখা
আরে বিজন তুমি এখানে কী মনে করে?
অনেক দিন কথা হয় না তাই ভাবলাম যাই, দেখা করে আসি।
খুব ভালো। আমিও কথা বলার জন্য আকুল হয়ে বসে আছি। কত আর চুপচাপ বসে থাকা যায়?
চুপচাপ কেন? কথা বলা নিষেধ নাকি?
ঠিক নিষেধ নয়, তবে সব কিছু যখন ঘড়ির কাঁটায় কাঁটায় চলে, না চাইতেই যখন সব পাও, তখন বলার তেমন কিছু থাকে না। মানুষ তো অভাব অভিযোগ নিয়েই বেশি কথা বলে। কিন্তু যখন সব আছে আর সবচেয়ে বড় কথা যখন সবার সব আছে তখন আর কী নিয়ে কথা বলব বল?
এ যে দেখছি কমিউনিজম।
না না, কমিউনিজমে নিজের দক্ষতা ও পছন্দ মত কাজ করে সময় কাটানো যায়। অন্ততঃ তত্ত্ব সেটাই বলে। এখানে কিছু না করে সব পাও। অনেকটা বন্দী অবস্থায় থাকার মত।
স্বর্গ রূপী নরক?
তা বলতে পার। এ আমরা কোথায় এলাম?
বেশ কয়েকবার প্ল্যান করেও দুবনায় আসা হয়নি। তাই ভাবলাম এদিকটায় আপনাকে নিয়ে ঘুরি।
তা বেশ করেছ।
এই বন আমার প্রিয় জায়গাগুলোর একটি। ঐ যে বালুর ঢিপি, ত্যাপকিন পিক, ওখানে আমার ছেলেমেয়েরা শীতে খেলাধুলা করত, স্লেজে করে নীচে নামত।
তোমার কয়জন ছেলেমেয়ে?
চার জন। আন্তন আর মনিকাকে আপনি দেখেছেন। ক্রিস্টিনা আর সেভার জন্ম দুবনায়।
তোমাদের লেনিনস্কি প্রসপেক্টের বাসায় গিয়ে আন্তনের দুষ্টুমি দেখেছি। মনিকা তো তখন খুবই ছোট।
ঐ বাসা এখন নেই। অনেক কিছুই বদলে গেছে।
বদলানোই তো জীবনের নিয়ম।
চলুন ভোলগার তীরে যাই। ওটা আমার কালীগঙ্গা। ওখানে গেলে মনে হয় নিজের গ্রামে ফিরে গেছি।
হ্যাঁ, নদীর তীরে যারা বেড়ে ওঠে নদী তাদের সারা জীবন সাথেই থাকে। তোমার তো বাসায় গাছ ছিল। এখন আছে?
হ্যাঁ, অনেক। তাছাড়া বাড়ির নীচে একটা বাগান মত করেছি। আপনার ভালো লাগবে। ওখানে অবশ্য গুলিয়া একাই কাজ করে। আমি মাটির দরকার পড়লে এনে দেই আর জলের নল লাগিয়ে দেই।
খুব ভালো। আমারও বাগান ছিল।
সে জন্যেই তো নিয়ে এলাম এদিকে। দেখানোর জন্য।
শোন, আমি কিন্তু বেশিক্ষন থাকতে পারব না।
কেন? ওখানেও গেট সিস্টেম নাকি? বন্ধ করে দেবে?
অনেকটা তাই।
তাহলে আর কী? কী ঢালব – কনিয়াক না ভোদকা? ওসব আছে ওদিকে?
আমাদের একেবারেই ভিন্ন ব্র্যান্ড।
তাহলে আর কি ভোদকা হয়ে যাক। শুভ জন্মদিন কাকু!
দুবনা, ২৯ মে ২০২৪


Comments
Post a Comment