ট্রেন
আজ বাসা থেকে বেরিয়ে আবার ফিরতে হল বলে এক্সপ্রেস ট্রেনটি মিস করলাম। পরের ট্রেনটি লোকাল, সেটাতেই যাব। বাসা থেকে বেরুনোর সময় গালিয়া জিজ্ঞেস করেছিল মস্কো যাচ্ছি কি না। গুলিয়ার ধারণা ওকে সত্য কথা বলার জন্য আমি ট্রেন মিস করলাম। মুস্কিল।
১৪.১৪ তে ট্রেন ছাড়ল। সব একেবারে ঘড়ির কাঁটায় কাঁটায়। ভেরবিলকি এসে ট্রেন দাঁড়িয়ে রইল। মাঝেমধ্যে ঘোষণা, ট্রেন ছাড়তে দেরি হবে। কিছু দিন আগেও মস্কো থেকে রাতে ফেরার সময় কানালস্ত্রোঈ এ প্রায় ৩০ মিনিট দাঁড়িয়েছিলাম। এখন এখানে নতুন আরেকটি লাইন বসানোর কাজ চলছে তাই মাঝে মাঝে এমন বিপত্তি।
আজ যখন ভেরবিলকি স্টেশনে দাঁড়িয়েছিলাম মনে পড়ল ১৯৯৫ সালের কথা। তখন গুলিয়া আন্তন আর মনিকাকে নিয়ে মস্কো থাকে। আমি শুক্রবার দুবনা থেকে আসি ওদের সাথে ছুটি কাটাতে। ফিরি রাতের ট্রেনে। সাধারণত আফিনাসিয়েভ আর আমি এক সাথে ফিরি। সেবার কি কারণে যেন আমার দেরি হয়। দুবোভিক মস্কো যাবে। ঠিক হল আমরা একসাথে যাব। ট্রেনে উঠে বসে আছি। দুবোভিকের দেখা নেই। ভাবলাম আসেনি হয়তো। তখন তো সেল ফোন ছিল না। বেশ রাতে ভেরবিলকি এসে ট্রেন দাঁড়িয়ে রইল। দাঁড়িয়ে আছে তো আছেই। সেই সময় রাত বিরাতে চলাচল খুব নিরাপদ ছিল না। তখন দুবনাগামী এক ট্রেন এলে আমি সেটায় চড়ে ফিরে গেলাম। রাতে গুলিয়া ফোন করল। দুবোভিক ফোন করে জানতে চাইছিল আমি কোথায়। আজ প্রায় ৩০ বছর পরে আফানাসিয়েভ, দুবোভিক কেউ বেঁচে নেই। অথচ যা কিনা মৃত্যুর চেয়েও বিরল সেটা ঘটল। এখানে আবার ট্রেন লেট করল। আর বেশ কিছু স্মৃতি মনের কোণে উঁকি দিয়ে গেল। ট্রেন চলছে মস্কো পানে।
মস্কোর পথে, ১২ মে ২০২৪

Comments
Post a Comment