টুপি মাহাত্ম্য

মস্কো থেকে ফিরছি। ট্রেন বলশায়া ভোলগা এসে পৌঁছায় রাত ১২.২০ মিনিটে। এখান থেকে বাসা প্রায় আড়াই কিলোমিটার। যদি শেষ বাস পাই অর্ধেক পথ তাতে যাই নাহলে হাঁটা পায়ে। আমার কাছে খারাপ আবহাওয়া বলে তেমন কিছু নেই। ক্যামেরার ব্যাগ আর রুকস্যাক পিঠে ঝুলিয়ে সোজা হাঁটতে শুরু করি। বেশি রাত হলে বরং সাহস বাড়ে। আমার বিশ্বাস এ সময় ভালো মানুষ তো বটেই, বখাটে, এমনকি ভূতেরাও ঘুমুতে যায়।

আজ বাস ছিল। ওটা নদীর ওপারে চলে যাবার আগেই নেমে পড়লাম। হঠাৎ আহসানের কথা মনে পড়ল। ওর সাথে কথা বলতে বলতে যাচ্ছি। এমন সময় রাস্তা পার হবার লাইট জ্বললে যে মিউজিক বেজে ওঠে সেটা শুনলাম। অবাক হয়ে দেখলাম আমি রাস্তা পার হয়ে চলে এসেছি, অথচ খেয়াল করিনি। পরের রাস্তায় রেড লাইট জ্বলছে। এত রাতে গাড়ি নেই। তাই লাল বাতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পার হয়ে গেলাম। দূরে কয়েকটি ছেলেমেয়ে হাসাহাসি করছে নিজেদের মধ্যে। হঠাৎ পেছন থেকে মেয়েলী গলা

আপনি ট্যাঙ্গো নাচতে পারেন?

কিছু না বলে আমি হাঁটছি। কিছুক্ষণ পরে বুঝলাম এটা আমাকে উদ্দেশ্য করেই বলা। মাথায় চে'র টুপি দেখে ল্যাটিন মনে করেছে। কেউ কেউ অন্য দেশের স্পেশাল ফোর্সের কেউ ভেবেও ভুল করে। ভুলে ভরা জীবন।

দুবনা, ২১ মে ২০২৪


 

Comments

Popular Posts