স্বীকারোক্তি

আমি ছাত্র জীবনে রান্না শিখিনি তাই কেউ মেসে নিত না। অথবা উল্টোটা, মেসে নিত না বলে রান্না শিখিনি। এর কারণ আমার ফাঁকিবাজি চরিত্র। অন্যেরা যখন হাত মিলিয়ে কাজ করত আমি তখন হাত গুটিয়ে বসে থাকতাম। ফলে খেতাম স্তালোভায়ায়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রাতের খাবার জুটত আজান দিয়ে। আজান দেয়া মানে খাবারের গন্ধ শুঁকে বন্ধুদের (যারা খাবার ভাগ করে খেত তাদের বন্ধু ভাবাই শ্রেয়) টেবিলে হাজির হয়ে। পরে বৌ বন্ধুদের হটিয়ে তাদের জায়গা দখল করলে খেতাম তার হেঁশেলে। তৃতীয় সন্তানের জন্মের পর বৌ যখন রান্নার সময় পেত না হেঁশেলের প্রধান হলাম আমি। কিন্তু সময় মত পড়াশোনা না শিখলে যেমন কর্ম জীবনে বিপদে পড়তে হয় রান্নার ক্ষেত্রেও ঠিক তাই। তবে পড়াশোনার ফলের জন্য শেষ বিচারের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়, রান্নার ফলাফল কোর্ট মার্শালের মত তাৎক্ষণিক। ক্ষুধার্তের কাছে পূর্ণিমার চাঁদ যেনো ঝলসানো রুটি। রান্না খারাপ হলেও খেতে হয়। প্রতিদিন পাওয়া যায় নতুন নতুন স্বাদ। এই যা।

দুবনা, ১৭ মার্চ ২০২৪

Comments

Popular Posts