সুখাসুখ
সকালে মনিকা টেলিফোন করল। ওরা এমনিতে প্রায়ই ফোন করে।
কী খবর? সব ভালো?
হ্যাঁ। তুমি আমার ছবিগুলো ডাউনলোড করেছ?
করেছি। রোববার নিয়ে আসব।
ওকে ইদানিং প্রায়ই ফটোসেশনে ডাকছে। ক্রিস্টিনা অনেক আগে থেকেই এসব করে বেড়ায়। আর আমি ওদের এক্সপার্ট। কেমন তুলল, এডিটিং কেমন হল এ ব্যাপারে মতামত দিতে হয়।
তোমার পায়ের কী অবস্থা?
বেঁচে আছে। একটু ব্যথা আছে এই আর কি।
ডাক্তার দেখিয়েছিলে?
ভুলে গেছি।
কতবার বলি রাস্তা দেখে হাঁটার জন্য। তোমার সাথে ঘুরতে যাওয়া মানে সব সময় টেনশনে থাকা।
পাশ থেকে গুলিয়া বলল
ইঞ্জেকশন নাওনি?
কেন? ওর কি দরকার? আমার তো কন্টাক্ট হয়নি। জাস্ট ছুলে গেছে।
রক্ত পড়লে কন্টাক্ট হয়।
আমি মনে মনে বলি, হাড্ডি আর চামড়ার মাঝে চর্বি আর মাংস থাকলে কন্টাক্ট দরকার। আর যদি চর্বি বা মাংস না থাকে ঘষা লাগলেই রক্ত বেরুতে পারে।
আসলে গত শুক্রবার যখন গাছগুলোর ডালের বিভিন্ন নকশা দেখতে দেখতে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম তখন বরফের নীচে লুকিয়ে থাকা লোহার রেলিঙে পা আটকে পড়ে যাই। তখনই মনে হয়েছিল একটু রক্ত বেরুলে বেরুতেও পারে। তবে প্যান্ট উঁচু করে যে দেখব সেটা আর হয়ে ওঠেনি আলসেমিতে। সেদিন পলিক্লিনিকেও গেছিলাম, তবে পা'কে নিয়ে মাথা ঘামাতে হবে বলে ভাবিনি। রাতে বাসায় ফিরে দেখি বেশ খানিকটা জায়গা ছিলে গেছে। পরে আর সময় হয়নি এ নিয়ে ভাবার। তবে ব্যথাটা বেশ ভালই সঙ্গ দিচ্ছে। আমার সমস্যা হল রাস্তায় চলার সময় প্রায়ই ভুলে যাই পায়ের নীচে মাটির কথা। দিব্য আকাশের তারা গুনতে গুনতে বা মেঘদের খেলা দেখতে দেখতে চলি। ফলে হোঁচট খাওয়া আমার জন্য ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চের মত। মনিকা, ক্রিস্টিনা বা সেভার সাথে হাঁটতে গেলে প্রায়ই শুনতে হয়
পাপা, রাস্তা দেখে হাঁট।
গুলিয়ার কাছেও সেকথা শুনতে হয়। কোথাও হাঁটতে গেলে ও অনেক কথা বলে আর আমি এটা ওটা দেখি। ফলে প্রায় কিছুই শুনি না। সেদিন গুলিয়া আমাকে একটা রিল পাঠাল। তাতে এক ছোট্ট বাচ্চা বলছে - "একমাত্র মানুষ যাকে নিজের সব সিক্রেট নির্দ্বিধায় বলা যায় সে হল বর। সে কোনদিন কাউকে কিছু বলবে না। সে এমনকি তুমি যা বললে তার কিছুই শোনেনি।" নীচে গুলিয়ার কমেন্ট - এটা তোমার সম্পর্কে।
আসলে কাটা ছেঁড়া আমার নিত্যদিনের অভ্যেস। ছোটবেলায় এমন কোন দিন ছিল না যেদিন আমার কোন কোন কোন কিছু কাটেনি। তবে জ্যাঠামশাইয়ের ঝাড়ফুঁকে সব মুহূর্তেই চলে যেত। এখন রান্না করতে গিয়ে হাত কাটা অনেকটা নিত্ত নৈমিত্তিক ব্যাপার। পেরেক গাড়তে হাতে হাতুড়ির বারি খাওয়া সেটাও কমবেশি নিয়মিত। এ সম্পর্কে আমার অবশ্য নিজের তত্ত্ব আছে। আমি সব করি ডান হাতে অথচ বামপন্থী। মনে হয় এ কারণে সুযোগ পেলেই ডান হাত বাঁ হাতের উপর হাতুড়ির বারি দিয়ে বা ছুরি চালিয়ে প্রতিশোধ নেয়।
অসুখটা সুখের ছিল না, তবে মনিকা, সেভা আর গুলিয়ার টেনশন দেখে একটু সুখ সুখ ভাব এসেছে, তবে ইঞ্জেকশনের কথায় মনে হল ডাক্তার মনে হয় দেখানোই দরকার যাতে সুখটা অসুখ না হয়ে যায়।
দুবনা, ০৬ মার্চ ২০২৪
কী খবর? সব ভালো?
হ্যাঁ। তুমি আমার ছবিগুলো ডাউনলোড করেছ?
করেছি। রোববার নিয়ে আসব।
ওকে ইদানিং প্রায়ই ফটোসেশনে ডাকছে। ক্রিস্টিনা অনেক আগে থেকেই এসব করে বেড়ায়। আর আমি ওদের এক্সপার্ট। কেমন তুলল, এডিটিং কেমন হল এ ব্যাপারে মতামত দিতে হয়।
তোমার পায়ের কী অবস্থা?
বেঁচে আছে। একটু ব্যথা আছে এই আর কি।
ডাক্তার দেখিয়েছিলে?
ভুলে গেছি।
কতবার বলি রাস্তা দেখে হাঁটার জন্য। তোমার সাথে ঘুরতে যাওয়া মানে সব সময় টেনশনে থাকা।
পাশ থেকে গুলিয়া বলল
ইঞ্জেকশন নাওনি?
কেন? ওর কি দরকার? আমার তো কন্টাক্ট হয়নি। জাস্ট ছুলে গেছে।
রক্ত পড়লে কন্টাক্ট হয়।
আমি মনে মনে বলি, হাড্ডি আর চামড়ার মাঝে চর্বি আর মাংস থাকলে কন্টাক্ট দরকার। আর যদি চর্বি বা মাংস না থাকে ঘষা লাগলেই রক্ত বেরুতে পারে।
আসলে গত শুক্রবার যখন গাছগুলোর ডালের বিভিন্ন নকশা দেখতে দেখতে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম তখন বরফের নীচে লুকিয়ে থাকা লোহার রেলিঙে পা আটকে পড়ে যাই। তখনই মনে হয়েছিল একটু রক্ত বেরুলে বেরুতেও পারে। তবে প্যান্ট উঁচু করে যে দেখব সেটা আর হয়ে ওঠেনি আলসেমিতে। সেদিন পলিক্লিনিকেও গেছিলাম, তবে পা'কে নিয়ে মাথা ঘামাতে হবে বলে ভাবিনি। রাতে বাসায় ফিরে দেখি বেশ খানিকটা জায়গা ছিলে গেছে। পরে আর সময় হয়নি এ নিয়ে ভাবার। তবে ব্যথাটা বেশ ভালই সঙ্গ দিচ্ছে। আমার সমস্যা হল রাস্তায় চলার সময় প্রায়ই ভুলে যাই পায়ের নীচে মাটির কথা। দিব্য আকাশের তারা গুনতে গুনতে বা মেঘদের খেলা দেখতে দেখতে চলি। ফলে হোঁচট খাওয়া আমার জন্য ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চের মত। মনিকা, ক্রিস্টিনা বা সেভার সাথে হাঁটতে গেলে প্রায়ই শুনতে হয়
পাপা, রাস্তা দেখে হাঁট।
গুলিয়ার কাছেও সেকথা শুনতে হয়। কোথাও হাঁটতে গেলে ও অনেক কথা বলে আর আমি এটা ওটা দেখি। ফলে প্রায় কিছুই শুনি না। সেদিন গুলিয়া আমাকে একটা রিল পাঠাল। তাতে এক ছোট্ট বাচ্চা বলছে - "একমাত্র মানুষ যাকে নিজের সব সিক্রেট নির্দ্বিধায় বলা যায় সে হল বর। সে কোনদিন কাউকে কিছু বলবে না। সে এমনকি তুমি যা বললে তার কিছুই শোনেনি।" নীচে গুলিয়ার কমেন্ট - এটা তোমার সম্পর্কে।
আসলে কাটা ছেঁড়া আমার নিত্যদিনের অভ্যেস। ছোটবেলায় এমন কোন দিন ছিল না যেদিন আমার কোন কোন কোন কিছু কাটেনি। তবে জ্যাঠামশাইয়ের ঝাড়ফুঁকে সব মুহূর্তেই চলে যেত। এখন রান্না করতে গিয়ে হাত কাটা অনেকটা নিত্ত নৈমিত্তিক ব্যাপার। পেরেক গাড়তে হাতে হাতুড়ির বারি খাওয়া সেটাও কমবেশি নিয়মিত। এ সম্পর্কে আমার অবশ্য নিজের তত্ত্ব আছে। আমি সব করি ডান হাতে অথচ বামপন্থী। মনে হয় এ কারণে সুযোগ পেলেই ডান হাত বাঁ হাতের উপর হাতুড়ির বারি দিয়ে বা ছুরি চালিয়ে প্রতিশোধ নেয়।
অসুখটা সুখের ছিল না, তবে মনিকা, সেভা আর গুলিয়ার টেনশন দেখে একটু সুখ সুখ ভাব এসেছে, তবে ইঞ্জেকশনের কথায় মনে হল ডাক্তার মনে হয় দেখানোই দরকার যাতে সুখটা অসুখ না হয়ে যায়।
দুবনা, ০৬ মার্চ ২০২৪

Comments
Post a Comment