দাদুর নাতি
আজ কয়েকটি ছবি পাঠাল সের্গেই। সের্গেই ভেরনভ। আমার কনফারেন্সের বন্ধু। কনফারেন্সেই পরিচয়। কনফারেন্সেই দেখা। তা অনেক দিন হবে। মাত্র কয়েক দিন আগে স্তাসের সাথে যখন আলাপ হল রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়ে, জানলাম ওরা ১৯৯৪ সালে মাস্টার্স কমপ্লিট করেছে। আমি ১৯৮৯ সালে আর ১৯৯৩ সালে পিএইচডি। তবে এ নিয়ে কোন সমস্যা নেই। ও কাজ করে মডিফাইড গ্র্যাভিটির উপর। আমি ক্ল্যাসিক্যাল আইস্টাইন থিওরি করি। তাই কাজের ক্ষেত্রে আমাদের যোগাযোগ নেই। তবে ও যেহেতু ছবি তোলে তাই কনফারেন্সের ফাঁকে ফাঁকে আমি সের্গেই আর ওর বৌ কাতিয়ার সাথে বেরিয়ে পড়ি ছবির খোঁজে। সেদিন এই ছবি নিয়ে স্তাস বেশ মজা করেই বলল
আমরা বন্ধুরা বলাবলি করি সের্গেই যখন মারা যাবে আর ওর কফিন মাটিতে দেবার জন্য আমরা প্রস্তুত হব, ও তখন কফিন থেকে উঠে বলবে দাঁড়া তোদের শেষ ছবিটা তুলে নেই।
সের্গেই শুধু বলল - আমার কোন তাড়া নেই।
গত বছর নভেম্বরে যখন আমাদের কাজানেই দেখা বললাম দুবনা বেড়াতে আসতে। বলল, ছোটবেলায় যেত যখন দাদু বাঁচা ছিল। এখন আর হয়ে ওঠে না। জানতামই না যে দুবনার ভেরনভ স্ট্রীট ওর দাদুর নামে। দুবনার অনেক রাস্তা ঘাট বিজ্ঞানীদের নামে। তবে সের্গেই যে ওনার নাতি কখনো জানা হয়নি। এর আগেও এক বন্ধু মারা যাবার পর জানলাম ও ছিল রাশিয়া তো বটেই বিশ্বের একজন খ্যাতনামা কার্ডিওলজিস্ট বাকুলেভের নাতি। ও আর আমি অল্প কয়েকদিনের ব্যবধানে ডিএসসি ডিফেন্ড করি। পিতেরবুর্গে একটা কনফারেন্সে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এম্বুলেন্স এলে ও বলে নিজেই যেতে পারবে। সাহায্যের দরকার নেই। শুনেছি ওর নাকি হার্ট অ্যাটাক করেছিল আর এই হাঁটাটাই ফাটাল হয়েছিল। এমনিতেই কথার পিঠে কথা এল। আমাদের লোকজন এরকম কারো নাতি হলে নিশ্চয়ই ঢোল পিটিয়ে সবাইকে জানাত। অথবা জানাত না। কে জানে।
কাজান, ৩০ নভেম্বর ২০২৩

Comments
Post a Comment