কয়লা

কথায় আছে কয়লা ধুলেও ময়লা যায় না। আজ মস্কো যাওয়া হয়নি। তাই অনলাইনে ক্লাস। ঘুম থেকে উঠে পরিজ বসিয়ে লেকচারটা আবার দেখছি। কানে এল ফোঁস ফোঁস শব্দ। চোখ তুলে দেখি পরিজের রক্তচক্ষু। জাস্ট এ মিনিট বলে আবার খাতায় ডুবে গেলাম। এরপরেই দেখি পরিজ কেঁদে কেটে চুল্লী ভিজিয়ে ফেলেছে। না উঠে উপায় নেই। নইলে বৌকে সামলানো কঠিন হবে। ও খুব একটা রান্না করে না, তবে চুল্লী নোংরা করলে এমন সোরগোল করে যেন ওর গায়েই ফোস্কা পড়েছে। 

মনে পড়ল মার কথা। খাবার রেডি করে ডাকতেন। আর আমি বলতাম এক মিনিট। এই অংকটা করেই আসছি। কত সময় যে কেটে যেত। একসময় পড়ার ঘরেই খাবার রেখে যেতেন। আমিও অংক কষতাম বা বই পড়তাম। রাত বাড়ত। এবার বাবার পালা। এবার খেয়ে নাও। এই তো আরেকটু বাকি। একসময় রাত দুটো, তিনটে বেজে যেত। এবার বাবা বলতেন ঠান্ডা খাবার খাওয়ার দরকার নেই। এখন ঘুমাতে যাও। সকালে গরম ভাত খেয়ে নিও। বাবা মা এসব বুঝতেন। পরিজ, ভাত ওদের দয়ামায়া বলতে কিছু নেই। এক মিনিট দেরি হলেই কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ লাগিয়ে দেয়।

দুবনা, ২০ নভেম্বর ২০২৩

Comments

Popular Posts