যৌবন
গতকাল ক্লাসের মাঝখানে ওয়ার্নিং বেল বেজে উঠলো। আগুন লাগার সম্ভাবনা আছে। সবাই বিল্ডিং থেকে বেরিয়ে যেন নীচের চত্বরে জড়ো হয়। আমি এ সময় কোয়ান্টাম মেকানিক্সের প্রোবাবিলিটি সম্পর্কে কথা বলছিলাম। হঠাৎ এ ঘোষণা। কি করা। ছাত্র-ছাত্রীরা বলল এটা শিক্ষামূলক ওয়ার্নিং। কিন্তু এর উপর নির্ভর করে তো আর ক্লাসে বসে থাকা যায় না। বিশেষ করে যখন সত্যিকার আগুন লাগার সম্ভাবনা থেকেই যায়।
কি করব এখন?
আমাদের নিয়ে নীচে যাবেন।
তার মানে জনা পঁচিশ তাগড়া ছেলেমেয়েকে নিরাপদে এখান থেকে বের করে নিতে হবে। মহা বিপদ। বাইরে গিয়ে দেখি শত শত ছেলেমেয়ে। বললাম
যদি সত্যিকার আগুন লাগে তাহলে এখানে জড়ো হওয়া তো বেশি বিপদজনক।
আসলে আমরা জড়ো হয়েছিলাম ভেতরের আঙ্গিনায়। ছাত্রজীবনে ওখানে বসে আড্ডা দিতাম কফি খেতে খেতে। আলেগ, রানা, ঝেনিয়া, লেভ, আন্দ্রেই, ভাদিম কতজনের মুখ যে ভেসে উঠলো। মিনিট পঁচিশ পরে সবাই ধীরে ধীরে ক্লাসে ফিরে গেলাম। আগুন আগুনই। এমনকি সেটা সত্যিকার আগুন না হলেও কিছু না কিছু ক্ষতি করেই যায়। ক্লাসে ফিরে দেখি অর্ধেক ক্লাস মিথ্যা আগুন গ্রাস করে ফেলেছে। জনা দশেক বিদেশী হাওয়া হয়ে গেছে। না, কিছু মাইন্ড করিনি। ছাত্রজীবনে এমন সুযোগ এলে আমরা পুরা ক্লাসশুদ্ধ সিনেমা দেখতে গেছি। এটাই যৌবনের ধর্ম।
দুবনা, ১৮ এপ্রিল ২০২৩

Comments
Post a Comment