ফেরা
গত রোববার যখন মস্কো যাচ্ছি পথে ক্রিস্টিনার মেসেজ এল
- পাপা তুমি কোথায়?
- আমি প্রায় চলে এসেছি। মিনিট দশেক পরে মেট্রোয় ঢুকব। তুই কোথায়?
- আমিও ভোকাল থেকে ফিরছি। তুমি পথে রুটি আর কনডেন্সড মিল্ক কিনে আনবে কিন্তু।
- ঠিক আছে।
ক্রিস্টিনা গতকাল পিতের থেকে এসেছে এক সপ্তাহের জন্য। আমি সেভাকে ফোন করে বললাম লুঝনিকির ওখানে লেনতায় আসতে। আরও টুকিটাকি কিছু কিনে দুজনে যখন বাসায় ফিরছি ক্রিস্টিনা জানালো ও মনিকার সাথে এক বান্ধবীর ওখানে যাচ্ছে। ফিরতে অনেক রাত হবে।
ওরা এলো সকালের দিকে। আমিও ঘুম থেকে উঠে ভার্সিটি যাওয়ার জন্য তৈরি হলাম।
- সেভা আমাকে কিছু খাওয়াবি না?
- পরিজ করে দেব?
- দে।
কিছুক্ষণ পরে সেভা পরিজ আর চা দিল। বেশ খানিকটা পরিজ। আমি এতটা খাই না। তাই বললাম
- খুব বেশি দিয়েছিস।
- তুমি যেটুকু পার খাও। বাকিটা ফেলে দেব না হয় আইকাকে দিয়ে দেব।
আইকা ওর প্রিয় কুকুর। বন্ধু।
ওদের ছোটবেলায় আমি নিজেও বলতাম যেটুকু পারে খেতে। আমি এমনিতেও পুরোটা না খেতে পারতাম। কিন্তু এই যে আশ্বস্ত করা, স্বাধীনতা দেয়া তার অন্য রকম একটা গুরুত্ব আছে। যদি এমনিতে ফেলে দিতাম ওর পরিশ্রমের মর্যাদা দিচ্ছি না তেমন কিছু ও মনে করতেই পারত। ছোট্ট একটা কথা কিন্তু কতটা আশাব্যঞ্জক। সেভা এখন ধীরে ছোটবেলার ঋণ শোধ করছে। বড় হচ্ছে।
দুবনা, ০৫ এপ্রিল ২০২৩

Comments
Post a Comment