ভূতুড়ে ব্যাপার
আগামীকাল এখানে পাসখা বা ইস্টার। গুলিয়ার সাথে যখন পরিচয় তখন ওরা এসব মানত না। সোভিয়েত ইউনিয়নে ধর্মীয় পার্বণ পালনের রীতি তেমন ছিল না, থাকলেও গোপনে অনেকটা ব্রিটিশ বা পাকিস্তান আমলে কমিউনিস্ট পার্টি করার মত।
ধর্ম নিয়ে মাথা ব্যথা না থাকলেও এসব উৎসবের সাংস্কৃতিক দিকটা আমার ভালো লাগে। সোভিয়েত আমলে তাই ইস্টার ও রঝদেস্তভার (ক্রিস্টমাস) রাতে গির্জায় যেতাম। তাই যখন ছেলেমেয়েযরা ছোট ছিল নিজে এসব আয়োজন করতাম। সবচেয়ে মজা হত ডিম ভাঙ্গার প্রতিযোগিতা।
দোকানে গেলাম কুলিচ (কেকস) আর ডিম কিনতে। ওগুলো নিয়ে গেলাম মাছের ওখানে। কার্পগুলো নিশ্চিন্তে সাঁতার কাটছে। ওদের নববর্ষ নেই, পাসখা নেই, ঈদ নেই, পূজা নেই। সারা জীবন একটা বিশাল দিন অথবা কালো রাত। রাতই হবে। পড়াশুনা না করলে আলোকিত হবে কিভাবে? রাত পোহাবে কেমনে?
কার্প কিনে বাসার দিকে হাঁটছি আর ভাবছি ইলিশ নেই তাতে কি (অবশ্য ইলিশ আমি খাই না ১৯৭১ থেকে। পাশের বাড়ির ওরা বলেছিল ইলিশের পেটে মানুষের আস্ত একটা হাত পেয়েছিল)? বাসায় ঢুকে ব্যাগ থেকে কুলিচ, ডিম, মাছ এসব নামাতে গিয়ে মনে পড়ল আমি আসলে ইস্টারের বাজার করতে দোকানে গেছিলাম। পথে যে বার্চ গাছ আছে সেখানে থেকে মনে হয় আমার কাঁধে নববর্ষ ভর করেছে। কি ভূতুড়ে ব্যাপার রে বাবা।
দুবনা, ১৫ এপ্রিল ২০২৩

Comments
Post a Comment