ব্যাগ ভর্তি রহস্য
কিছুদিন আগে আবিষ্কার করলাম যে আমার কোমরের ব্যাগের চেন নষ্ট হয়ে গেছে। একসময় পকেটেই সব রাখতাম, কিন্তু কাঁধকে একটু হাল্কা করার জন্য কোমরের ওপর এই বোঝা চাপানো। বেচারা পায়ের ঘাড়ে চরে সারা দিন মিছেমিছু ঘুরে বেড়ায়। তাই এই শাস্তির ব্যবস্থা। যাহোক, কী করা? গোটা তিনেক ব্যাগ অর্ডার দিলাম, পছন্দ মত একটা নিয়ে নেব। অনলাইন শপিংএর এই এক সুধিধা, বিশেষ করে শো রুম যদি নিজেদের বাসার একতলায় হয়। এরপর মনে পড়ল, এর আগেও একাধিক ব্যাগ কিনেছিলাম। খুঁজে পেতে একটা পেয়েও গেলাম, চামড়ার, তবে একটু ছোট। ভাবলাম, ওই ব্যাগগুলো আসার আগে পর্যন্ত এটাই ব্যবহার করি। এবং খুব পছন্দ হয়ে গেল। তারপরেও একটা ব্যাগ কিনলাম, যেটা এখন পরবর্তী ব্যাটসম্যান আউট হবার জন্য প্যাভিলিয়নে বসে অপেক্ষা করছে। এরপর মনে হল, আগের ব্যাগটা তো ভালই ছিল। দেখি না, ওর চেইন বদলানো যায় কিনা। গেলাম সেরকম এক জায়গায়। আসলে এর আগে যার কাছে করাতাম ও ছিল আরমেনিয়ার এক লক। লাস্ট টাইম যখন ব্যাগের চেইন বদলাতে গেলাম, ও বলল নতুন চেইন লাগাতে হবে। এক হাজার রুবল। সেই টাকায় নতুন ব্যাগ কেনা যায়। কিন্তু কিছু কিছু জিনিস অনেক দিন ব্যবহার করলে অভ্যেস হয়ে যায়। মনে মনে ভাবলাম, বউ অসুস্থ হলে আমরা তো তার চিকিৎসা করি, নতুন বউ তো আর বিয়ে করি না। বললাম, ঠিক আছে, করে দাও। পরের দিন দেবার কথা ছিল। ঘন্টা দুয়েক পরে ফোন করে বল্ল, ব্যাগ রেডি। খুশি হয়ে আনতে গেলাম। গিয়ে দেখি নতুন চেইন লাগায়নি, আগেরটাই আছে, শুধু জিপার রানার ঠিক করে দিয়েছে। সব ঠিক আছে, তবে ওই কাজের জন্য ও সাধারণত ৩০০ রুবল নেয়। এভাবে দিনে দুপুরে ঠকাবে। না, কিছুই বলিনি, ঠিক করেছি ওর ওখানে আর কন দিন নয়। মহিলাকে ব্যাগটি দিয়ে বললাম সমস্যা কোথায়।
- বুঝলাম। এটা ঠিক করতে হবে এই ব্যাগটা পুরপুরি খুলতে হবে, এরপর নতুন জিপার লাগিয়ে আবার সেলাই করতে হবে। অনেক কাজ। ভাবছি নেব কিনা?
- আপনি কত নেবেন সেটা বলুন। যদি গ্রহণযোগ্য হয় তাহলে করাব।
- ১৫০০ রুবল।
- না না, তাহলে দরকার নেই। আমি ঠিক এই রকম নতুন ব্যাগ এরচেয়ে কম দামে কিনতে পারব। শুধু অনেক দিনের সাথে, তাই ভাবলাম ফেলার আগে চেষ্টা করি। তবে আপনি চাইলে অন্যভাবে করার পথ বলে দিতে পারি।
- বলুন।
- যেখান থেকে চেইনটা খুলে যায় সেখানে সেলাই করে দিন। আমার ওই পর্যন্ত খুললেই সব কাজ হবে।
- তাহলে এক কাজ করি। ওই পর্যন্ত আরেকটি রানার লাগিয়ে দেই। এটা ডেকোরেটিভ। তাহলে ব্যাগটি যে সেলাই করা সেটা বোঝা যাবে না। আমি ৫০০ রুবলেই করে দেব।
৫০০ রুবল দিয়ে আলি এক্সপ্রেসে এ ধরণের ব্যাগ কেনা যায়। তবুও বললাম -
- ঠিক আছে করুন।
এরপর পেমেন্টের পালা।
- আপনি নগদ দেবেন নাকি অনলাইন পেমেন্ট করবেন?
- অনলাইন।
- আমি আপনার স্ত্রীকে চিনি।
- হতে পারে।
- আপনার সাথে একদিন দেখেছি।
- হতেই পারে। আমরা কখনও সখন এদিন সেদিক ঘুরতে যাই।
- ওনার সাথে আমরা হাসপাতালে ছিলাম।
- আপনি মনে হয় ভুল করছেন। আমার স্ত্রী সন্তান জন্ম দেয়া ছাড়া কখনও হাসপাতালে যায় না।
- হতেই পারে না। আপনার স্ত্রীর নাম কাতিয়া?
- না। বললাম তো হাসপাতালে ওর সাথে দেখা হবার কোন সম্ভাবনা নেই।
- কিন্তু আমার মনে আছে, আপনার সাথে আমি ওনাকে দেখেছি।
- এটা হতে পারে। অথবা অন্য মহিলাও হতে পারে। আমার তো রাস্তাঘাটে মহিলার সাথে কথা বলতে বা কোথাও যেতে মানা নেই।
- কিন্তু সেই মহিলা আপনার স্ত্রী।
- মহা মুস্কিল
- কি নাম আপনার স্ত্রীর?
- গুলিয়া।
- তাহলে সে নয়।
- তাই। তাছাড়া আমাদের আপ্নারা মনে রাখেন চামড়ার রঙ দেখে। মনে হয় অন্য কারও সাথে গুলিয়ে ফেলছেন।
- হতেই পারে না, আমার স্মৃতি শক্তি খুব প্রখর।
- যা অবস্থা, তাতে রুগিকে মরে প্রমাণ করতে হবে যে সে বেঁচে ছিল। যাকগে, আসুন এই আলচনা বাদ। ব্যাগটা দেখতে যেন একেবারে নতুন হয়।
- চিন্তা করবেন না। কেউ টেরই পাবে না।
- সমস্যা হল, আমি নিজে জানব যে ওটা নতুন নয়, আইসিইউ থেকে প্রাণ নিয়ে বেরিয়ে এসেছে।
আমিও কথা না বাড়িয়ে প্রান হাতে করে ওখান থেকে বেরিয়ে এলাম। জনি না ওই ব্যাগ আমি আদৌ ব্যবহার করব কিনা। নাকি স্মৃতি হতেই পড়ে থাকবে আলমারির এক কোণে!
দুবনা, ০২ জুলাই ২০২৬
- বুঝলাম। এটা ঠিক করতে হবে এই ব্যাগটা পুরপুরি খুলতে হবে, এরপর নতুন জিপার লাগিয়ে আবার সেলাই করতে হবে। অনেক কাজ। ভাবছি নেব কিনা?
- আপনি কত নেবেন সেটা বলুন। যদি গ্রহণযোগ্য হয় তাহলে করাব।
- ১৫০০ রুবল।
- না না, তাহলে দরকার নেই। আমি ঠিক এই রকম নতুন ব্যাগ এরচেয়ে কম দামে কিনতে পারব। শুধু অনেক দিনের সাথে, তাই ভাবলাম ফেলার আগে চেষ্টা করি। তবে আপনি চাইলে অন্যভাবে করার পথ বলে দিতে পারি।
- বলুন।
- যেখান থেকে চেইনটা খুলে যায় সেখানে সেলাই করে দিন। আমার ওই পর্যন্ত খুললেই সব কাজ হবে।
- তাহলে এক কাজ করি। ওই পর্যন্ত আরেকটি রানার লাগিয়ে দেই। এটা ডেকোরেটিভ। তাহলে ব্যাগটি যে সেলাই করা সেটা বোঝা যাবে না। আমি ৫০০ রুবলেই করে দেব।
৫০০ রুবল দিয়ে আলি এক্সপ্রেসে এ ধরণের ব্যাগ কেনা যায়। তবুও বললাম -
- ঠিক আছে করুন।
এরপর পেমেন্টের পালা।
- আপনি নগদ দেবেন নাকি অনলাইন পেমেন্ট করবেন?
- অনলাইন।
- আমি আপনার স্ত্রীকে চিনি।
- হতে পারে।
- আপনার সাথে একদিন দেখেছি।
- হতেই পারে। আমরা কখনও সখন এদিন সেদিক ঘুরতে যাই।
- ওনার সাথে আমরা হাসপাতালে ছিলাম।
- আপনি মনে হয় ভুল করছেন। আমার স্ত্রী সন্তান জন্ম দেয়া ছাড়া কখনও হাসপাতালে যায় না।
- হতেই পারে না। আপনার স্ত্রীর নাম কাতিয়া?
- না। বললাম তো হাসপাতালে ওর সাথে দেখা হবার কোন সম্ভাবনা নেই।
- কিন্তু আমার মনে আছে, আপনার সাথে আমি ওনাকে দেখেছি।
- এটা হতে পারে। অথবা অন্য মহিলাও হতে পারে। আমার তো রাস্তাঘাটে মহিলার সাথে কথা বলতে বা কোথাও যেতে মানা নেই।
- কিন্তু সেই মহিলা আপনার স্ত্রী।
- মহা মুস্কিল
- কি নাম আপনার স্ত্রীর?
- গুলিয়া।
- তাহলে সে নয়।
- তাই। তাছাড়া আমাদের আপ্নারা মনে রাখেন চামড়ার রঙ দেখে। মনে হয় অন্য কারও সাথে গুলিয়ে ফেলছেন।
- হতেই পারে না, আমার স্মৃতি শক্তি খুব প্রখর।
- যা অবস্থা, তাতে রুগিকে মরে প্রমাণ করতে হবে যে সে বেঁচে ছিল। যাকগে, আসুন এই আলচনা বাদ। ব্যাগটা দেখতে যেন একেবারে নতুন হয়।
- চিন্তা করবেন না। কেউ টেরই পাবে না।
- সমস্যা হল, আমি নিজে জানব যে ওটা নতুন নয়, আইসিইউ থেকে প্রাণ নিয়ে বেরিয়ে এসেছে।
আমিও কথা না বাড়িয়ে প্রান হাতে করে ওখান থেকে বেরিয়ে এলাম। জনি না ওই ব্যাগ আমি আদৌ ব্যবহার করব কিনা। নাকি স্মৃতি হতেই পড়ে থাকবে আলমারির এক কোণে!
দুবনা, ০২ জুলাই ২০২৬
Comments
Post a Comment