প্রসঙ্গ সাব
সাব নিয়ে আগের লেখাগুলোয় বিভিন্ন মন্তব্যের উত্তরে এই লেখা।
সাবে কমবেশি ৯০০ সদস্য যার একটি বড় অংশ দেশের বাইরে। এজিএমে উপস্থিত থাকে ২০০ জনের মত যা মোট সদস্যের ২০ - ২২%। তাই উপস্থিত সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জনসমর্থন নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। অনেকেই নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করার চেষ্টা করছে। আমার মনে হয়
সমস্যা নির্বাচন কমিশনের নয়। আমরা সাবকে যেভাবে দেখতে চাই সেভাবে গড়ে তুলতে পারিনি। এটা এখনও পর্যন্ত কিছু ইস্যু ভিত্তিক সংগঠন। সোভিয়েত ইউনিয়ন বা বর্তমান রাশিয়ায় জিমলিয়াচেস্তবার মত। সেখানে ভার্সিটি বা ইনস্টিটিউটের পৃষ্ঠপোষকতায় বিভিন্ন জাতীয় বা আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান পালন করতাম। আমরা ভাবতাম এভাবে আমরা দেশের সংস্কৃতির সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত রাখছি আর কর্তৃপক্ষ ভাবত তারা তাদের আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালন করছে। কিন্তু স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে প্রাণের টানে তেমন কিছু করা হত না কিছু ঘরোয়া আড্ডা ছাড়া। সাবের অধিকাংশ ঘটনা ও ধরণের, শুধু বড় স্কেলে। আমরা অবচেতন মনে রুশ দূতাবাস ও রাশিয়ান হাউজ থেকে সহযোগিতা আশা করি। দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা - এসব বড় বড় কথা বললেও সেসব বাস্তবায়নে আমরা খুব একটা কিছু করি কি? অনেকেই সোভিয়েত পরবর্তী ডিগ্রীতেই নিজেদের পরিচয় দিতে চাই। তাই শুধু মাত্র সংগঠনের নেতৃত্ব বদল করলে কিছু হবে না, পরিবর্তন করতে হবে মানসিকতার। সোভিয়েত ইউনিয়ন তো বটেই আধুনিক রাশিয়ায়ও আমরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত। আগে ছিল সিপিবি/ন্যাপ/বাকশাল, ব্যবসায়ী ও ব্যবসা করে না - এ রকম বিভাজন। এখন আওয়ামী লীগ/ বিএনপি, জানি না ৭১/২৪ আছে কি না। সোভিয়েত ও রুশ ইহুদিরা যেমন ইসরাইলে গিয়ে রুশ হয়ে যায় (রুশ হিসেবে গৃহীত হয়) দেশে ফিরে দল মত নির্বিশেষে সব ভিপুস্কনিক রুশ হয়ে যাই। কিন্তু নিজেদের ছাত্র জীবনের বিভিন্ন তিক্ততা কাটিয়ে উঠে নতুন করে জীবন শুরু করতে পারি না। তার প্রভাব সাবে পড়ে। বাংলাদেশ যেমন কোন আমলেই আওয়ামী লীগ/বিএনপি/অন্যান্য দলের দেশ হতে পারে না, সাবও সবসময় সব ভিপুস্কনিকদের সংগঠন হতে পারেনি। বাংলাদেশ যেমন শুধুমাত্র ক্ষমতাসীনদের দেশ হয় সাবও তাই। আমার মনে হয় এই বাস্তবতা স্বীকার করে বিভিন্ন চিন্তা-ভাবনা, রাজনৈতিক মতবাদের প্রতিনিধিদের নিয়ে যদি কোন কমিটি করা যায় তাহলে সাব ধীরে ধীরে সবার হয়ে উঠতে পারে। আমাদের ছাত্রজীবনে মস্কোয় এরকম পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল। সাফল্যের গ্যারান্টি নেই। তবে চেষ্টা করা যেতে পারে। এর জন্য সাবকে এমন একটি সংগঠনে পরিণত হতে হবে যখন প্রতিটি সদস্য, প্রতিটি ভিপুস্কনিক মনে করে যে পেশাগত জীবনে তার কোন সমস্যা হলে সাব তার পাশে দাঁড়াবে। তবে এটা সম্ভব হবে তখনই যখন রুশ দূতাবাস, ইনকরভুজ, রুশ সত্রুদনিচেস্তভো, রাশিয়ান হাউজ এই সব সংগঠনের সাথে সাবের ভালো ওয়ার্কিং রিলেশন থাকবে। আমার মনে হয় এক্ষেত্রে সাব একজন সহ-সভাপতিকে বিশেষ দায়িত্ব দিতে পারে এদের সাথে সংযোগ রক্ষাকারী হিসেবে।
দুবনা, ০২ জুলাই ২০২৬
Comments
Post a Comment