স্মৃতি

ডাক্তার দেখাতে মস্কো গেলাম। সকালের ক্লাস মিস হবে। ছাত্রদের তাই টেস্ট পরীক্ষা। নাতাশা প্রশ্ন পত্র দেবে। এটা রেজিওনাল হসপিটাল কাম রিসার্চ সেন্টার। মস্কো রিজিওনের রুগিদের স্থানীয় ডাক্তাররা উন্নত চিকিৎসার জন্য ওখানে রেফার করে। আমার মেরুদন্ডের সমস্যা এবার খুব একটা কমেনি বলে পাঠালো নিউরোসার্জনের কাছে। আজকাল ডাক্তারদের অনেকেই মধ্য এশিয়ার। রুশ ডাক্তাররা মনে হয় যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাদের সাহায্য করতে ব্যস্ত। আমাকে যার কাছে পাঠাল তার খান। একটু কিউরিওসিটি জাগল - আমাদের এলাকার নয় তো? যদিও তাতারদের মধ্যেও এই টাইটেল আছে। হাসপাতালে গিয়ে শুনলাম উনি অসুস্থ। আমাদের দেখবেন বাতিরবিয়েভ নামে এক ডাক্তার। পাশেই দুই বয়স্ক রুশ মহিলা নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলেন 
- এই ডাক্তার কি রুশ?
- কি যে বল? ইহুদি নিশ্চয়ই।
আমাকে মুচকি মুচকি হাসতে দেখে ওনারা ফিসফিস করে কথা বলতে লাগলেন।
শেষ পর্যন্ত ডাক্তারের ওখানে ডাক পড়ল। অল্প বয়স্ক।
- কিসের সমস্যা?
- কাঁধে ব্যথা।
- কতদিন হল?
- ১৯৮৮ সাল থেকে।
একটু অবিশ্বাসের দৃষ্টি তার চোখে।
- আমি দুই মিনিটের জন্য বাইরে যেতে পারি? উনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন।
- অবশ্যই।
আমি অপেক্ষা করছি। ফিরে এসে জিজ্ঞেস করলেন
- আপনি কোন দেশের?
- বাংলাদেশের।
- আমাদের দেশে অনেক দিন?
- ১৯৮৩ থেকে।
- ভালো লাগে এখানে?
- হ্যাঁ। আপনি কাজান থেকে?
- ঠিক বুঝলাম না।
- মানে আপনি কাজান শহর থেকে?
- না। দাগিস্তানের। নাম শুনেছেন?
- হ্যাঁ। আমাদের সাথে কয়েক জন পড়ল।
বলতে বলতে মনে পড়ল আদামের মুখ। প্রস্ততি পর্বের পর এই প্রথম। ও ওয়াজেদের রুমমেট ছিল। ওয়াজেদ ছাত্র জীবনেই ক্যান্সারে মারা যায়। কখন যে কার কথা মনে পড়ে যায়!
- এই যে দেখুন, আপনার মেরুদন্ডের একটি ডিস্কে সমস্যা। এর জন্য আপনাকে থেরাপি নিতে হবে। অপারেশন আপাতত হবে না।
ওকে ধন্যবাদ দিয়ে বেরিয়ে এলাম। চোখের সামনে ভেসে উঠলো ওয়াজেদ, আদাম, রাশিদ আর রুস্তামের মুখ। আদায়, রাশিদ, রুস্তাম ওরা সবাই ছিল ককেশাস এলাকার মানুষ।

মস্কো, ১৪ অক্টোবর ২০২৫

Comments

Popular Posts