ঐতিহাসিক যাদুঘরে

মাসুদ ফোন করে বলল ওর তেমন ইচ্ছে করছে না দূতাবাস যেতে। আমি বরং যেন মনিকার সাথেই যাই। 

বাসায় এসে মনিকাকে বললাম তৈরি হতে। ও অবশ্য প্রস্তুত ছিল। চললাম ঐতিহাসিক যাদুঘর দেখতে।

রেড স্কয়ারে ঢুকতেই পাশাপাশি দুটো মিউজিয়াম - হিস্টোরিক্যাল মিউজিয়াম আর লেনিন মিউজিয়াম। মনিকা মেট্রো থেকে বেরিয়ে লেনিন মিউজিয়ামের দিকে হাঁটতে শুরু করল। 
- তুই মনে হয় ভুল করছিস।
- না না। ঠিক আছে। চল।

নাম লেখা দেখলাম ১৮১২ সালের যুদ্ধের যাদুঘর। 
ঢুকে টিকেট কাউন্টারে এসে বুঝলাম আমরা ভুল করেছি। চললাম পাশের যাদুঘরে। 

আমি পেনশন কার্ড দেখালাম যদি ডিসকাউন্ট দেয়। কাজ হল না। তবে আজ এমনিতেই ৫০% অফ। মনিকাই টিকেট নিল। চললাম গেটে। হঠাৎ দেখি মনিকাকে কি যেন জিজ্ঞেস করছে। মনিকা বলছে রুস্কি।

- কী সমস্যা?
- আপনি কি রুস্কি?
কিছু না বুঝেই বললাম 
- হ্যাঁ।
- পাসপোর্ট আছে? দেখান।

আমার গেল মেজাজ খারাপ হয়ে। পাসপোর্ট আমার সবসময় সাথেই থাকে। হঠাৎ যদি পুলিশ চায়। শেষ কবে পুলিশ চেয়েছিল ভুলে গেছি। তাই এই অপ্রত্যাশিত ঘটনায় মেজাজ খারাপ। মনে হল এটা বর্ণবাদী আচরণ। মনিকা হস্তক্ষেপ করলে।
- পাপা, পাসপোর্ট দেখিয়ে চল যাই।

আমি পাসপোর্ট দেখানো মাত্র সমস্যা মিটে গেল। এবার মনিকা বলল
- তুমি অযথাই ওনাকে কথা শোনালেন। আসলে অনেক মিউজিয়ামে রূশ ও বিদেশীদের জন্য টিকেটের ভিন্ন ভিন্ন দাম। তুমি তো বিদেশীর মত দেখতে। তাই এক হাজারের পরিবর্তে ৩০০ রুবলের টিকেট দেখে উনি তোমার পাসপোর্ট দেখতে চেয়েছিলেন। আমার মনে পড়ল ইন্ডিয়ায় আমি পশ্চিম বঙ্গের বলে স্থানীয় টিকেট নিতাম। এটা এক কলিগ শিখিয়ে দিয়েছিল। হিন্দী বলতে না পারায় দুই এক জায়গায় সমস্যা অবশ্য হয়েছিল।

ঐতিহাসিক যাদুঘরে যাত্রা শুরু হয় প্রাগৈতিহাসিক যুগ দিয়ে। এরপর ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় সময়। আসে মধ্যযুগ, তাতার মঙ্গোলদের আমল, রোমানভ বংশ আর শেষ হয় লেনিনকে দিয়ে। লেনিনের এটা সাময়িক কিনা ঠিক বুঝলাম না। আমরা যখন মিউজিয়ামে ঢুকলাম তখন হাতে এক ঘন্টার একটু বেশি সময় আছে। হাড়গোড় মাটি পাথর দেখতে দেখতেই প্রচুর সময় কেটে গেল। ফলে দোতলায় রোমানভ বংশের জন্য সময় ছিল কম। অনেকটা ঝড়ের বেগে দেখা। অবশ্য এখানকার সবকিছু অতি পরিচিত বিধায় দ্রুত চোখ বুলিয়ে নেয়া গেল। এমনকি কয়েক মিনিট পেলাম লেনিনের জন্য। একেবারে শেষে স্তালিনের দেখাও মিলল। স্তালিন পরবর্তী সোভিয়েত আমল ও নতুন রাশিয়া এখনও হয়তো ঐতিহাসিক যাদুঘরে স্থান পাবার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। অথবা সময়াভাবে আমরা খুঁজে পাইনি। অনেক দিন পরে মিউজিয়ামে গিয়ে ভালোই লাগল।

মস্কো, ১৯ মে ২০২৫

Comments

Popular Posts