টেস্ট স্টোন

আজ বসন্তের শেষ দিনে মানে ৩১ মে এবছর প্রথমবারের মত ভোলগায় গেলাম সাঁতার কাটতে। গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ছিল ২৫ এর উপর। এটা আমাদের সামার টেম্পারেচারের চেয়ে বেশি। আজ অবশ্য ২১। শনিবার। তাই চললাম ঘাটে। দেখি নাতাশা সহ তিন মেয়ে সান বাথ করছে?
আপনি এবার প্রথম এলেন?
গত পরশু এসেছিলাম। কাউকে না পেয়ে জলে নামিনি। 
তাই!
জলের কি অবস্থা?
তেমন গরম হয়নি। তবে নামা যায়।
ওরা বসে বসে গল্প চালিয়ে গেল। আমি একটু শরীর গরম করে জলে নামলাম। না, সাঁতার কাটা হয়নি, গা ডুবিয়ে প্রায় সাথে সাথেই উঠে আসতে হল। মনে হল জলের তাপমাত্রা ১৫-১৬ হবে। উঠতেই নাতাশার অভিযোগ 
আমরা তো দেখলামই না আপনি জলে নামলেন কি-না। আমাদের স্বাক্ষী রেখে আবার নামুন। 
কোন দরকার নেই। ভেজা শরীর আর ভেজা প্যান্ট যদি কনভিন্স করতে না পারে তাহলে আর চেষ্টা করব না।
সাঁতারের সিজন ওপেন করার জন্য অভিনন্দন। কাল আসবেন তো?
যদি মস্কো না যাই।
মস্কো যেতে হবে না। ভোলগায় আসবেন।
বাসার দিকে হাঁটতে হাঁটতে মনে হল ওরা এখনও শুধু রোদ পোহায়, সাঁতার কাটতে শুরু করেনি। জল খুব ঠান্ডা নয় বলে আমাকে জলে নামিয়ে টেস্ট করে দেখল। এটা অবশ্য নতুন কিছু নয়। ছাত্র জীবনে পরীক্ষার হলে সবাই বসে থাকত কখন আমি প্রশ্নের উত্তর দিতে যাব। এভাবে সবাই শিক্ষকের মন মেজাজ যাচাই করত। টেস্ট স্টোন যাকে বলে। এই প্রথম আমি মে মাসে গঙ্গা স্নান শুরু করলাম।

দুবনা, ৩১ মে ২০২৫


Comments

Popular Posts