জোড়া খুন
আজ জোড়া খুন হল। খুন না বলে বলা চলে সমূলে উৎপাটন। আসলে অনেক দিন থেকেই এটা অবধারিত ছিল তবে ঐ যে ভয়! কয়েক জন ডাক্তারের কাছে গেছি যদি বাঁচিয়ে তুলতে পারে। কিন্তু সবার এক কথা - অত গভীরে ঢোকা যাবে না। তাই গিলোটিন চালাতে হবে। আমার আবার আক্কেল কম, এক ঝটকায় ২৫% আক্কেল হারালে চলবে কীভাবে? তাই বিভিন্ন অজুহাতে সময় পার, ফলে আশেপাশের অনেকেই অসুস্থ। রাতে যখন প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হল গেলাম ডাক্তার দেখাতে। দেখে বললেন
- উপায় নেই গোলাম হোসেন। এক্ষুনি হাসপাতালে পাঠিয়ে দিচ্ছি।
- কিন্তু আমার আগামী সোমবার কনফারেন্সে রিপোর্ট করতে হবে।
- এতদিনে সব ঠিক হয়ে যাবে।
চললাম হাসপাতালে। মনে মনে দেখছি বিশাল সাড়াশি হাতে এক বিশাল বপু ডাক্তার। না, অল্প বয়সী এক মহিলা। দেখে একটু আশ্বস্ত হলাম। শুরু হল অপারেশন। মেয়েটির চেষ্টার শেষ নেই। কিন্তু ডীপ রুটেড দাঁত কি এত সহজে হার মানে? আমার একটু মায়াই হলো ওর জন্য।
-আপনি নিশ্চয়ই ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন।
- না না, সব ঠিক আছে। অসুবিধা নেই।
কথা ছিল আট নম্বর মানে আক্কেল দাঁত তোলার।
- আপনার সাত নম্বর দাঁত কিন্তু সারানো যাবে না।
- আমি জানি।
- যদি রাজি হন ওটাও তুলে ফেলি।
- এ তো জোড়া খুন!
- ঠিক তা নয়। ওটা না তুলে আট নম্বর তোলা যাবে না।
- করুন যা ভালো মনে করেন।
সাত নম্বর সুবোধ বালকের মত সুর সুর করে বেড়িয়ে এল গর্ত থেকে। আরও অনেক ঠেলা ধাক্কার পর দাঁত উৎপাটন উৎসব সমাপ্ত হল।
- দিন দশেক ব্যথা থাকবে।
শুনে আমার আক্কেল গুড়ুম।
- বলেন কি? আমার কনফারেন্স।
- ভয় নেই এতদিনে ঠিক হয়ে যাবে।
এরপর গেলাম পে করতে।
- আপনি নিজেই পে করবেন?
- দাঁত তো সরকারি নয়, আমার।
- এই কাগজ আপনার ইনস্টিটিউটে দেবেন। ওরা পে করে দেবে।
যাক অন্তত একটা ভালো খবর। তবে আসল কথা ব্যথা। আগে অনেকগুলো দাঁত ব্যথা করত, এখন করছে না। এমনকি পায়ের ব্যথা কোথায় যেন পালিয়ে গেছে। সব দেখে সেই চুটকি মনে পড়ে গেল।
এক লোকের মাথাব্যথা। সে এলো ওষুধের দোকানে মাথাব্যথার ওষুধ কিনতে। সেবা দিচ্ছে সবে কাজে যোগ দেয়া এক মেয়ে। কিছুক্ষণ পরে অভিজ্ঞ মহিলা জিজ্ঞেস করল
- উনি কিসের ওষুধ চেয়েছিলেন?
- মাথাব্যথার।
- কোন ওষুধ দিলে?
মেয়েটি ওষুধের প্যাকেট দেখাল।
- করেছ কি? এখন তো ও টয়লেট থেকে বেরুতে পারবে না!
- তাহলে আর যাই হোক মাথাব্যথা নিয়ে তার আর মাথাব্যথা থাকবে না।
আমার এখন সব ব্যথা তুলে ফেলা দুই দাঁতের গোড়ায়। তাই এখনও বলা কষ্ট ব্যথা চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে চলে গেল নাকি ছুটি নিয়ে বেড়াতে গেল?
দুবনা, ১৪ মে ২০২৫
- উপায় নেই গোলাম হোসেন। এক্ষুনি হাসপাতালে পাঠিয়ে দিচ্ছি।
- কিন্তু আমার আগামী সোমবার কনফারেন্সে রিপোর্ট করতে হবে।
- এতদিনে সব ঠিক হয়ে যাবে।
চললাম হাসপাতালে। মনে মনে দেখছি বিশাল সাড়াশি হাতে এক বিশাল বপু ডাক্তার। না, অল্প বয়সী এক মহিলা। দেখে একটু আশ্বস্ত হলাম। শুরু হল অপারেশন। মেয়েটির চেষ্টার শেষ নেই। কিন্তু ডীপ রুটেড দাঁত কি এত সহজে হার মানে? আমার একটু মায়াই হলো ওর জন্য।
-আপনি নিশ্চয়ই ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন।
- না না, সব ঠিক আছে। অসুবিধা নেই।
কথা ছিল আট নম্বর মানে আক্কেল দাঁত তোলার।
- আপনার সাত নম্বর দাঁত কিন্তু সারানো যাবে না।
- আমি জানি।
- যদি রাজি হন ওটাও তুলে ফেলি।
- এ তো জোড়া খুন!
- ঠিক তা নয়। ওটা না তুলে আট নম্বর তোলা যাবে না।
- করুন যা ভালো মনে করেন।
সাত নম্বর সুবোধ বালকের মত সুর সুর করে বেড়িয়ে এল গর্ত থেকে। আরও অনেক ঠেলা ধাক্কার পর দাঁত উৎপাটন উৎসব সমাপ্ত হল।
- দিন দশেক ব্যথা থাকবে।
শুনে আমার আক্কেল গুড়ুম।
- বলেন কি? আমার কনফারেন্স।
- ভয় নেই এতদিনে ঠিক হয়ে যাবে।
এরপর গেলাম পে করতে।
- আপনি নিজেই পে করবেন?
- দাঁত তো সরকারি নয়, আমার।
- এই কাগজ আপনার ইনস্টিটিউটে দেবেন। ওরা পে করে দেবে।
যাক অন্তত একটা ভালো খবর। তবে আসল কথা ব্যথা। আগে অনেকগুলো দাঁত ব্যথা করত, এখন করছে না। এমনকি পায়ের ব্যথা কোথায় যেন পালিয়ে গেছে। সব দেখে সেই চুটকি মনে পড়ে গেল।
এক লোকের মাথাব্যথা। সে এলো ওষুধের দোকানে মাথাব্যথার ওষুধ কিনতে। সেবা দিচ্ছে সবে কাজে যোগ দেয়া এক মেয়ে। কিছুক্ষণ পরে অভিজ্ঞ মহিলা জিজ্ঞেস করল
- উনি কিসের ওষুধ চেয়েছিলেন?
- মাথাব্যথার।
- কোন ওষুধ দিলে?
মেয়েটি ওষুধের প্যাকেট দেখাল।
- করেছ কি? এখন তো ও টয়লেট থেকে বেরুতে পারবে না!
- তাহলে আর যাই হোক মাথাব্যথা নিয়ে তার আর মাথাব্যথা থাকবে না।
আমার এখন সব ব্যথা তুলে ফেলা দুই দাঁতের গোড়ায়। তাই এখনও বলা কষ্ট ব্যথা চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে চলে গেল নাকি ছুটি নিয়ে বেড়াতে গেল?
দুবনা, ১৪ মে ২০২৫


Comments
Post a Comment