কথোপকথন

এক বন্ধু ফোন করে দেশের অবস্থা সম্পর্কে গল্প করতে শুরু করল। কার কি লাভ বা ক্ষতি হয়েছে দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটা বলতে পারব না, তবে আমি বিভিন্ন দিক থেকে লাভবান। আগে কালেভদ্রে আত্মীয় স্বজনদের সাথে যোগাযোগ হত, সেটাও ওরা করলে। এমন নয় যে আমি ওদের কথা ভাবি না তবে যখন ফোন করার কথা মনে পড়ে দেখি অনেক রাত হয়ে গেছে। প্রায় এক বছর হল প্রীতম দুবনায় কাজ করলেও এর আগে ফোনে হাই হ্যালোর বাইরে তেমন একটা যোগাযোগ হত না। এখন ভোলগা তীরে বেড়াতে গেলেই ওকে ডাকি। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলি। ২০১৬ সালে দেশ থেকে ফেরার পর এত দীর্ঘ সময় আর মুখোমুখি বাংলায় কথা বলা হয়নি। এই যে আমি প্রতিদিন ফেসবুকে কিছু না কিছু লিখি সেটাও বন্ধুদের জানাতে যে ওদের জ্বালানোর জন্য আমি এখনও বহাল তবিয়তে বেঁচে বর্তে আছি। যাকগে ফিরে যাই বন্ধুর ফোনে 

- কিছুতেই বুঝতে পারছি না একটা দেশের প্রশাসনের শত ভাগ মানুষ গলে পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ার পরেও এতদিন দেশটি কিভাবে চলল?
- চলল, কারণ প্রশাসনের শত ভাগ পচে যায়নি।
- বল কী? সবাইকে তো অভিযুক্ত করছে, জেলে ঢুকাচ্ছে।
- তাতে কী? বাইরেও তো অনেকেই আছেন ‌ এমনকি খুবই গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা অনেকেই।
- যেমন?
- সেনাপ্রধান। তিনিও তো বিগত প্রশাসনের অংশ ছিলেন। অথবা রাষ্ট্রপতি। তাদের বিরুদ্ধে কিন্তু কোন অভিযোগ নেই। তাই প্রশাসন শত ভাগ পচা এটা ভুল ধারণা।

দুবনা, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪

Comments

Popular Posts