পাখি

আজ ৬ সেপ্টেম্বর। ১৯৮৩ সালে এই দিনটিতেই মস্কো এসেছিলাম উচ্চ শিক্ষা নিতে। রুশরা বলে শত বছর বাঁচতে, শত বছর শিখতে। আমিও সেটাই করে যাচ্ছি।

এবার সেপ্টেম্বর স্মরণকালের মধ্য সবচেয়ে গরম। ভোলগায় গেলাম সাঁতার কাটতে। এর আগে কখনো সেপ্টেম্বরে ভোলগায় নামিনি।

নদীতে নামতে গিয়ে দেখি দূরে কি যেন একটা জলে ঝাপটা ঝাপটি করছে। ভাবলাম মাছ। ব্যাগ থেকে ফোন বের করে সবে ভিডিও করতে শুরু করেছি, উপর থেকে নাতাশা জিজ্ঞেস করল
কিসের ভিডিও করছ?
ঠিক বোঝা যাচ্ছে না, মনে হয় পাখি।
ও নেমে এল। আমরা ঠিক বুঝছি না ওর কি হয়েছে আর আমরা কীভাবে সাহায্য করতে পারি। মনে হল পাখিটা বিপদে পড়েছে। কিন্তু কি করা? এরমধ্যে পাখিটি তীরের কাছাকাছি চলে এসেছে যদিও পিচ্ছিল পাথরের কারণে নাগালের বাইরে। বোঝা যাচ্ছে ওর জীবন সংগ্রাম শেষের পথে। তীরে কয়েকটি পাখি চিৎকার করছে। এরমধ্যে একটি কাক ওকে নিয়ে যাবার চেষ্টা করল। আমিও কিছুটা সাঁতার কেটে এলাম। মৃত (?) পাখিটি একটু একটু করে আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে। নাতাশা আমার হাতে একটি ডাল ধরিয়ে দিল। সেটা দিয়ে আমি ওকে কাছে নিয়ে এলাম। লেনা প্যাকেট আনল। ওকে প্যাকেটে ভরা হল। একটা কবুতর। দেখে মনে হল আহত। হয়তো ওই কাক বা অন্য কোন শিকারী পাখি ওকে ঘায়েল করেছিল। জলে নেমে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেছিল। শেষ রক্ষা হয়নি।
নাতাশা অনেকক্ষণ শান্ত হতে পারল না। এক পশলা কান্না। সবচেয়ে বড় কথা দোষ আমার।

কেন সাপ, পাখি এসব তোমারই চোখে পড়ে? এসবের ছবি তোল? 
এরপর ছবি তুললে আমরা তোমার ক্যামেরা কেড়ে নেব।

প্রায় কাঁদতে কাঁদতে আমাকে বলল নাতাশা। এটা নতুন নয়। নব্বইয়ের দশকে আমার বন্ধুরাও ক্যামেরা বাজেয়াপ্ত করার হুমকি দিয়েছিল অনেক বার।

দুবনা, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ 


Comments

Popular Posts