রান্না
গতকাল ২৩ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ায় ছিল পিতৃভূমির রক্ষী দিবস। সোভিয়েত আমলে এই দিনটি পালন করা হত রেড আর্মি দিবস, সোভিয়েত আর্মি দিবস ও ১৯৪৯ সাল থেকে সোভিয়েত আর্মি ও নৌবাহিনী দিবস হিসেবে। তখন এ দিন ছুটি ছিল না। এখন ছুটি আর দিনটি সব পুরুষের জন্য। মানে বাসায় কেক কাটার দিন। বাসায় আমাদের সবার জন্মদিনে তা যার জন্মদিন সে উপস্থিত থাকুক আর নাই থাকুক, কেক কাটা হয় আর কাটা হয় নববর্ষ, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ৮ মার্চ, বিজয় দিবসে। এছাড়া আরও অসংখ্য বার কেক কাটা হয় কোন উপলক্ষ্য ছাড়া। এতে কোন সমস্যা নেই। তবে গুলিয়ার ধারণা কেকের ৭৫% তার। এই হিসাব আমার মাথায় ঢোকে না। গতকালও ব্যতিক্রম ছিল না। গত পরশু বিকেলে ওর মস্কো যাওয়ার কথা ছিল। আমি ১৭.৩০ বাসায় ফিরে কুকুদের দায়িত্ব নেব আর ১৮.০০ আন্তনএর হাতে দায়িত্ব দিয়ে সুইমিং পুল ও ক্লাবে যাব। বিকেল চারটের দিকে গুলিয়া ফোন করে জানাল যে আন্তন বাসায় ফিরেছে। আমি ধরে নিলাম যে এখন বাসায় না গেলেও চলে। পরে যখন ব্যাগের জন্য বাসায় ফিরলাম শুনলাম আমার জন্য নাকি গুলিয়া ট্রেণ ফেল করেছে। যার জরিমানা হিসেবে ডাবল সাইজ কেক। ভাবলাম এই উপলক্ষ্যে পোলাও করি। বাজারে গেলাম মাংস কিনতে। যেটাই কিনতে চাই আজারবাইজানের দোকানি বলে এটাই সবচেয়ে টেস্টি। ওকে এ নিয়ে বললে বলল ওর দোকানে সব সুস্বাদু আর এটা নির্ভর করে রাঁধুনির উপর। আমিও সব কিছু খুব ভালো রান্না করি বলে দুই ধরণের মাংস নিলাম। অনেক যত্ন করে রান্না শেষ করে হাঁটতে গেলাম ভোলগার তীরে। ঘন্টা খানেক পরে ফিরে এসে খাবার বাড়তে গিয়ে দেখি চুল্লীটা নেভানো হয়নি। অল্প আঁচে পোলাওএর সৎকার সম্পন্ন না হলের পশ্চাৎদেশে দারুন স্যাকা খেয়েছে। ইস, অংকের মন মনে মনে রান্নাটা করা গেলে আমার কখনোই খাবার পুড়ত না। সব দোষ ঐ এক্সের।
দুবনা, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

Comments
Post a Comment