বন্ধু
মস্কো আসার কথা ছিল গত পরশু ০৯ ফেব্রুয়ারি গণ মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৪ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। তবে সকাল ৮ টার পরের ট্রেণগুলো ক্যান্সেল করায় ওখানে আর যাওয়া হয়নি। এলাম গতকাল। মনিকা আর মিশা ওদের এক বন্ধুর জন্মদিনে সেরপুখভ গেছিল। আমিও দুবনা থেকে আসার পথে রেড স্কয়ারে বেশ কিছুক্ষণ ঘুরে বাসায় ফিরে দেখি ক্রিস্টিনা আর সেভা মনিকার ঘরে আড্ডা দিচ্ছে। ঘরের সব ওলটপালট। বললাম, মনিকাকে বলিস পাপা করেছে। পরে সেভাকে নিয়ে দোকানে গেলাম বাজার করতে। সেভা রান্না করতে করতে বেশ রাত।
মনিকা এল সকাল ১১ টার দিকে। ক্রিস্টিনার উপর এক হাত নিল ঘর অগোছালো করার জন্য। ক্রিস্টিনা চলে গেল ফটোসেশনে। ও আজকাল বেশ মডেলিং করছে। মনিকা আমাকে ক্যামেরা আনতে বলেছিল। আজকাল ওকেও ডাকছে ছবি তুলতে। গত সপ্তাহে এক কোম্পানির মসলার বিজ্ঞাপনে অংশ নিল।
পাপা তুমি আমার সাথে হেঁটে ওশান যাবে?
ক্যামেরা নেব?
নাও।
আমাদের স্পোর্টিভনায়া বাসা থেকে লেনিনস্কি প্রসপেক্টের ট্রামলাইনের পাশে ওশান বড় জোর চার কিলোমিটার। ওশানের ওখানে গিয়ে জিজ্ঞেস করল
তোমার ক্ষিদে পেয়েছে?
না।
পাশেই চাইখানা। চল খেয়ে যাই। আমি খাওয়াবো।
ওটা মারখির হোস্টেলের পেছনে। মাংস ও ভাতের কাটলেট আঙুরের পাতায় ভরে সেদ্ধ করা। দলমা নাম। রুশরা করে গলুবৎসি বাঁধা কপির পাতায় বা কেটসিকামে। বাসায় অবশ্য আমরা এসব সেদ্ধ করি টমেটোর সস এ। বেশ ভালোই লাগল সাথে চা আর পাখ্ভালা। এটা তাতারস্তান ও মধ্য এশিয়ার জনপ্রিয় ডেসার্ট। ও হ্যাঁ, চাইখানা উজবেক রেস্টুরেন্ট। ওখান থেকে গেলাম কিয়েভস্কায়া। মনিকা মিশার জন্য টিশার্ট কিনবে ইউরোপ শপিং মল থেকে। পেল না। আমাকে শীতের টুপি কিনে দিল। বেশ কিছু ছবি তুললাম ওখানে। অবশ্য চাইখানা ও মস্কো নদীর উপরেও বেশ কিছু ছবি তুলেছি। পথে কত যে কথা হল। ছোটবেলায় ওদের আগ্রহ ছিল আমার কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে জানতে। হাজারো প্রশ্ন ছিল ওদের। এখন নিজেদের চিন্তা ভাবনাও শেয়ার করে আমার সাথে। তাই যখনই ওদের কেউ আমার সাথে ঘুরতে যায় বেশ ভালো জমে আমাদের আড্ডা। সবাই মিলে গল্প করলে এতটা হয় না। এটা মনে হয় আমার দুর্বলতা। আমি ওয়ান টু ওয়ান ডিসকাসন বেশি পছন্দ করি। যাহোক বেশ ভালো কাটল দিনটা। আসলে ছেলেমেয়েরা যখন বন্ধু হয় তখন জীবনটাও অর্থময় হয়।
মস্কো, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

Comments
Post a Comment