বোকামি

আজকাল আমি ঘরে বসে বসেই বিভিন্ন রোমহর্ষক কাহিনীর জন্ম দেই। গত দোসরা জানুয়ারি আমার অফিসিয়ালি ৬০ বছর পূর্ণ হল। কয়েক বছর আগেও এদেশে এটা ছিল রিটায়ার করার বয়স। আমাদের, মানে শিক্ষক, গবেষক বা অন্যান্য ইন্টেলেকচুয়াল জবের বাইরে অন্য সবাই অবসরে চলে যেত, আমাদের পেশার লোকজন হত শ্রমজীবী অবসরপ্রাপ্ত, মানে আংশিক পেনশন পেত আর কাজ চালিয়ে যেত। এর মূল কারণ যতটা না অর্থনৈতিক তারচেয়ে বেশি ডেমোগ্রাফিক। তবে এখনও ৬০ বছরে (মেয়েদের ক্ষেত্রে ৫৮) ছেলেরা প্রিপেনশন পায়, মানে ফ্রি পাবলিক ট্র্যান্সপোর্ট, ইন্টারসিটি লোকাল ট্রেন ইত্যাদি সুযোগ পায়। আমার যেহেতু প্রতি সপ্তাহে দুবনা-মস্কো-দুবনা করতে হয় তাতে মাসে চার থেকে পাঁচ হাজার রুবল খুব একটা কম নয়। দুবনায় থাকলেও আমার স্থায়ী ঠিকানা যেহেতু মস্কো, তাই আমাকে দেবে মস্কোবাসীর আইডি। দরখাস্ত করতে গিয়ে দেখি আমার ঠিকানার অফিস মেরামতের জন্য বন্ধ। তাই আমাকে অন্য যে কোন অফিস থেকে সেটা সংগ্রহ করতে হবে। বাসা থেকে মেট্রো কিয়েভস্কায়া খুব একটা দূরে নয়, মেট্রোয় ১০-১২ মিনিট, হাটলে মিনিট ৩৫-৪০। আমি ওটাই বেছে নিলাম। এরপর যখন সাময়িক আইডি তোলার জন্য ওখানে গেলাম, দেখি এই অফিসের নাম কিয়েভস্কি নয়, কিয়েভস্কি অফিস মস্কোর বাইরে, যেখানে যেতে ঘন্টা দেড়েক লাগে। এটা শুনে কয়েকদিন খুব মেজাজ খারাপ রইল নিজের উপর। চিঠি লিখলাম মস্কোর মেয়রের অফিসে। লিখলাম যে এটা আমার বোকামি, কিন্তু কিয়েভস্কি অফিস কিয়েভস্কায়া মেট্রোর পরিবর্তে দূরে এক উপশহরে করে আপনারা আমাকে এই বোকামি ইন্ধন জুগিয়েছেন। কোন ভাবে সম্ভব কিনা ডকুমেন্ট মেট্রো কিয়েভস্কায়া বা দুবনার অফিসে স্থানান্তর করা। তখন উত্তর পেলাম ওনারা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আমার আবেদন পৌঁছে দেবেন। এর মধ্যে কেটে গেল দেড় সপ্তাহ। ইতিমধ্যে কার্ড রেডি ও উপশহরের অফিসে আছে বলে নোটিশ পেয়ে ঠিক করলাম সেই অফিসেই যাব। এজন্যে মস্কো এলাম। সন্ধ্যায় মেয়রের অফিস থেকে মেইল পেলাম তারা আমার ব্যাপারটা নিয়ে কাজ করতে যথাযথ অফিসে নির্দেশ পাঠিয়েছেন। আমি এখন দ্বিধায় আছি সকালে সেই অফিসে যাব কি যাব না। কথায় বলে বাঘের এক ঘাট, আমলার দশ ঘাট। অথবা হতে পারে এটা আমার গাধামীর সোপ অপেরা।

মস্কো, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

Comments

Popular Posts