ভালোবাসা
নববর্ষের ছুটি কাটিয়ে ক্রিস্টিনা গত রাতে পিটার গেল। ক্লাস শুরু হয়েছে বেশ কিছুদিন। তবে মস্কোয় ও ভোকালের প্রাইভেট লেসন নেয় তাই এত দিন থাকা। যাতে সব কিছু গুছিয়ে নিতে পারে তাই টিকেট নিল রাত (ভোর) ২ টার। তবে মেট্রো যেহেতু ১ বন্ধ হয়ে যায় বাসা থেকে বেরুতে হবে ১২.৫৫ বা তার আগে। ওর কিছু নোট বা স্বরলিপি প্রিন্ট করার দরকার ছিল। সেগুলো দেবার জন্য আমার মস্কো আসা। বললাম সবাই মিলে কোথাও খেতে যেতে। সেভা রাজী হল না। ও বাসায় খাওয়ার পক্ষে। মনিকা কাজ করছিল। ক্রিস্টিনা বলল একটা হলেই হয়। শেষ পর্যন্ত রাত ৯ টার দিকে মনিকাকে নিয়ে দোকানে গেলাম। ইতিমধ্যে মিশা শুয়োরটাকে প্রসেস করেছে। ওদের ইচ্ছে ছিল দেড় কেজি ওজনের টুকরোটা আস্ত ওভেনে ঢুকানো, আমি জিজ্ঞেস না করে ওটাকে কেটে ফেলেছি তাই ঠিক কী করবে তা নিয়ে সন্দেহ ছিল। খেতে খেতে বারোটা বেজে গেল। ক্রিস্টিনা গেল হাঁটতে। ফিরে এলো ১২.৪০ এর দিকে। এখন ওর আরও কিছু গুছানো বাকি। ফ্রেস হওয়া বাকি। আমি একটু টেনশনে। কিছু বললে আরও সময় নষ্ট। তাই দেখছি কি করে।
আমি যাব তোকে মেট্রো পর্যন্ত এগিয়ে দিতে?
না, দরকার নেই।
সেভা এর মধ্যে প্রস্তুত হয়েছে ওকে এগিয়ে দেবে বলে। মনিকা শুয়ে পড়েছিল। বেরিয়ে এল বিদায় জানাতে। আমার সাথে বিদায় নিয়ে দু'জন গেল মেট্রোর দিকে। ভাগ্যিস ট্রেন ২ টায়। ক্রিস্টিনা সব সময় শেষ মূহুর্তে ট্রেন ধরে, কখনো প্রায় চলন্ত ট্রেনে। আমি নিজেও হরহামেশা গাড়ি মিস করি। নাকের ডগা দিয়ে ওরা বেড়িয়ে যায়। নিজের জন্য অবশ্য টেনশন হয় না।
রাত দুটোর পরে ক্রিস্টিনা লিখল ও ট্রেনে। সকালে লিখল আরও কিছু টাকা পাঠাতে পারব কি না?
আমার কি অন্য কোন চয়েজ আছে? জানতে চাইলাম। উত্তর নেই। জানি কষ্ট করে ম্যানেজ করে নেবে। কিন্তু ছেলেমেয়েরা কিছু চাইলে আমার নিজের কাছে নিজে কোন চয়েজ রাখতে পারি না। ভালোবাসা।
মস্কো, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

Comments
Post a Comment