স্মৃতি

অনেক দিন পরে ইলেট্রিচকায় মানে লোকাল ট্রেনে মস্কো যাচ্ছি। সাধারণত বাসে বা কার শেয়ারিং করে যাই। কালেভদ্রে এক্সপ্রেস ট্রেনে। আজও বাসে যাবার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু আগে থেকে টিকেট না কেনায় সীট পাইনি। একটা সীট ছিল। তবে গুলিয়া সাথে থাকায় বাস মিস। ট্রেন ছাড়তে দেরি তাই দোকানে ঢু মারা আর খাবার কেনা। 

ট্রেনে উঠেই গুলিয়া খাবার বের করল। আমি সাধারণত রাস্তায় খাই না। কিন্তু বৌয়ের হাত থেকে ওদের রক্ষা করতে কিছু খাবার নিজেকেই ভক্ষণ করতে হল।‌ আমার সমস্যা হল না খেলে ক্ষিদে পায় না, খেলে ক্ষিদে লাগে। মহা ঝামেলা। 

ট্রেন জার্নি একটু লেন্দি হলেও বেশ উপভোগ্য। মাঝেমধ্যেই ট্রেন থামে। কেউ নামে কেউ ওঠে। এ যেন রাস্তায় হেঁটে বেড়ানো - অনবরত নতুন নতুন মানুষের দেখা পাওয়া। 

এখনকার ট্রেনগুলো একটু অন্যরকম। আগে ওরা মস্কো দুবনা আপ ডাউন করত, এখন অন্য শহরে চলে যায়। ফলে ভীড় বেশি। যেতে যেতে মনে পড়ল ১৯৯৪-৯৫ সালের কথা। তখন গুলিয়া আন্তন আর মনিকাকে নিয়ে মস্কো থাকত। আমি প্রতি শুক্রবার ট্রেনে চেপে মস্কো ফিরতাম। ফলে সবগুলো স্টেশনের নাম মুখস্থ হয়ে গেছিল।

একবার দুবনা স্টেশনে গিয়ে শুনলাম ট্রেন ছাড়বে অন্য স্টেশন থেকে। দৌড়ে বাসে উঠে গেলাম সেই স্টেশনে। ট্রেন হুইসেল দিয়েছে ছাড়বে বলে। আমিও ওর সামনে দিয়ে দৌড়ে স্টেশনের দিকে যাচ্ছি। ট্রেন চালক নিজের গেট খুলে আমাকে তুলে নিয়ে বললেন
আর এমনটা করো না। 
হঠাৎ করেই মনে পড়ে গেল হারিয়ে যাওয়া স্মৃতি। মনে পড়ে গেল আফানাসিয়েভের কথা যার সাথে আমি মস্কো ফিরতাম। কত গল্পই না করতাম আমরা। সে নিজেই আজ স্মৃতি।

মস্কোর পথে, ০১ মে ২০২৩

Comments

Popular Posts