কারও পৌষ মাস
অনেক দিন পরে গতকাল জল্লাদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলাম। তিন তিনটে প্রাণীকে হত্যা করলাম।
বিকেলে যখন অফিস থেকে ফিরছি দেখি এক পরিচিত ছেলে মাছ বিক্রি করছে।
কত করে মাছ?
সুদাক ৫০০, লেশ ৩০০ করে।
তোমার তো দেখছি দোকানের চেয়ে বেশি দাম।
ঐ মাছ মারে লেনিন আর এটা নিজের হাতে ধরা। তবে তুমি কিনলে কম দামে দেব।
দাঁড়াও আমি দোকানে কিছু কেনাকাটা করে আসছি।
ফিরতেই বলল
তোমার জন্য অপেক্ষা করছি। ২০০ করে নাও।
এই তিনটে মাছ দাও।
আমি মনে মনে ঠিক করেছি ৩০০ টাকা দেব তিনটে মাছের জন্য।
কিলো ৭০০।
আমি ৩০০ দিচ্ছি। হবে?
হবে।
বাসায় ফিরে মাছ কাটতে গিয়ে ভাবলাম কাজটা ঠিক হল কি না।
এই মাছগুলো মারব?
না মারলে এই ঠান্ডায় আরও কষ্ট পেয়ে ওরা মরে যেত।
সেটাও ঠিক।
তাছাড়া এ লোকটা কিছু টাকা পেল। তুমি খাবার। যাই বল মাছের জীবনটা বৃথা যায়নি।
হুম। মাছগুলো দেখি আমার চেয়েও ভাগ্যবান। অন্ততঃ কয়েক জন লোকের উপকারে এল। আর আমি?
অত না ভেবে খেয়ে নাও। নাহলে ওদের আত্মত্যাগ মাঠে মারা যাবে।
দুবনা, ২৪ ডিসেম্বর ২০২২

Comments
Post a Comment