স্বাধীনতা
গতকাল ক্লাবে বসে আছি আমি আর ভাসিলি। কিছুক্ষণ পরে ইউরা এল। বলল
এখন তেমন লোকজন নেই। তোমাকে একটা কথা বলতে পারি?
বল!
এটা আমার এক্সোটিক চেহারার কারণে। সহজে মনে রাখে।
আবার ইয়ার্কি। আমি সিরিয়াসলি বলছি। বিভিন্ন সময় পার্সোনাল এক্সিবিশন করেছ। অনেক লোক তোমার ছবি পছন্দ করে। তোমার এক্সিবিশনের অপেক্ষায় থাকে।
তাই? জানা ছিল না। হঠাৎ এ প্রশ্ন? (দুবনার নামকরা ফটোগ্রাফাররা বাংলাদেশের উপর আমার এক্সিবিশনের কথা আজও বলে। বলে ছবি অনেকেই তোলে, কিন্তু এত ভালোবেসে কেউ সাধারণ মানুষের ছবি তোলে না। হয়তো সত্য। কে জানে?)
তুমি কিছুদিন আগে মনিকা আর ক্রিস্তিনার বেশ কিছু ছবি পোস্ট করেছ ভকন্তাক্তে। মনে হয় তুমি মিনিমান এডিট পর্যন্ত করনি ছবি গুলো। পাশাপাশি তোমার এক্সিবিশনের যেসব ছবি সেখানে তাতে মনে হয় দুই ভিন্ন লোকের ছবি এসব। কাজটা কিন্তু ঠিক হয়নি। একজন ভালো ফটোগ্রাফার হিসেবে তোমার এটা করা উচিৎ নয়।
দেখ, আমি ওদের সাথে এমনি হাঁটতে যাই। দু একটা ছবি তুলি। কখনও টেলিফোনে। আমি তো ওদের ছবি আপ্লড করার সময় এসব ভাবি না।
কিন্তু এর মধ্যে তুমি মারিনার গোটা দশেক ছবি পোস্ট করেছ। প্রতিটি ছবিই দেখার মত। তাহলে?
তাহলে আর কি? ও আমাকে ছবি তোলার জন্য ডেকেছিল। ওটা ছিল ফটোসেশন। আর মনিকা, ক্রিস্টিনা বা সেভার সাথে জাস্ট ঘুরে বেড়ানো।
এ সময় ভাসিলি মুখ খুলল।
বিজন, কেউ দেখতে যায় না তুমি কার সাথে ঘুরতে গিয়ে ছবি তুলেছ আর কার সাথে ছবি তোলার জন্য গেছ। সবাই ছবি দেখে আর ছবি দেখে বিচার করে। তুমি দুটো ফটো ক্লাবের সাথে জড়িত। এটা কিন্তু ক্লাবের দুর্নাম (ভাসিলি ঠাট্টা করছিল)
অনেক দিন পরে মনে পড়ল পাশা কলিসভের কথা। সেই ২০০৫ সালে। সবে ওদের সাথে পরিচয়। বাচ্চাদের, মানে মনিকা, ক্রিস্টিনা, সেভা ওদের ছবি দেখালাম। কোথাও খালি গায়ে বা ঘরের পোশাকে।
বলল
দেখ ছবিগুলো ভালো, তবে এরপর থেকে তুললে জামাকাপড়ের দিকে খেয়াল রেখ। ছবি তো ভালোই তোল। তাই এমন ভাবে তুলবে যাতে অন্যদের দেখাতে লজ্জা না পাও। ছবিও আর্ট। তাই সেখানে আরটিস্টিক এলিমেন্ট থাকা দরকার।
হ্যাঁ, সমস্যা এখানেই। একবার কোন কাজ অন্যদের পছন্দ হলে সেখান থেকে নীচে নামার উপায় নেই। চাও না চাও তোমাকে শুধু উপরেই উঠতে হবে। এমনকি যদি যদি তুমি উপরে উঠতে ভয়ও পাও।
কোথাও স্বাধীনতা নেই।





Comments
Post a Comment