বন্ধুত্বের অনুরোধ গ্রহণ কর না করা ঠিক নয়
আমি
যখন কয়েক বছর একা থাকতাম তখন বাসাটা ছিল অনেকটা গোডাউন মত। সবার শীতের জিনিস গরমে
আমার এখানে চলে আসত আর গরমের জিনিস শীতে আর এসব আসত আমার কাঁধে চড়ে। এছাড়াও ছিল রাজ্যের
জিনিসপত্র, রাস্তা থেকে কুড়িয়ে আনা। এসব ফটোগ্রাফির জন্য। উদ্ভট সাইজের বোতল, পুরানো
তক্তা, শুকিয়ে যাওয়া ফুল, পাতা ইত্যাদি। বছরে একবার গুলিয়া আসত কয়েক দিনের জন্য
বেড়াতে আর আমি অফিসে চলে গেলে সব ঝেঁটিয়ে বিদায় করত - প্রয়োজনীয় অপ্রয়োজনীয়
- সব। এসব জিনিসের অধিকাংশ থাকত যদি কখনও কাজে লাগে সেই সূত্র মেনে। যদিও নিজেই
ভাবতাম কিছু জিনিস ফেলা দরকার, তবে কোনটা রাখব আর কোনটা ফেলব – এ নিয়ে সব সময়ই মনে
সন্দেহ জাগত (আমি বরাবরই সন্দেহপ্রবন – পেশাগত কারণে) তাই আমার ধারণা গুলিয়া এটা
না করলে সেসব জিনিস কোনদিনই ফেলা হত না, আমার সাথে সাথেই ওরা একেবারে নরকের দ্বারে
গিয়ে হাজির হত। তার মানে এই নয় যে গুলিয়া কিছুই রাখে না। ও যখন মস্কো থেকে দুবনা
চলে আসে সাথে নিয়ে আসে হাজার জিনিস – সেটা ২০১৭ সালে। কথা ছিল সময় করে বসে দেখবে
কি ফেলা যায় কি যায় না। অনেক শখ করে দেড় বাই দুই মিটার একটা আয়না কিনেছিল অনেক দাম
দিয়ে, কিন্তু ওখানে মুখ দেখার সৌভাগ্য এখনও হয়নি, কারণ সেটার সামনে পাহাড়ের মত
স্তূপীকৃত সেসব পুরানো জিনিসের ভিড় ঠেলে মুখ কখনই আয়না মুখী হতে পারে না। আর
জিনিসপত্র বাছতে গেলেই দেখা যায় – এটা আন্তন পরত, মনিকা এই ড্রেস পরে নেচেছিল,
ক্রিস্টিনার প্রথম শীতের পোশাক বা সেভার প্রথম খেলনা। এক কথায় হাজার অজুহাত বেরিয়ে
আসে এসব জিনিস না ফেলার পক্ষে।
আজকাল ফেসবুকে আমার লিস্টে কয়েক হাজার বন্ধু (বান্ধবী কেন নয় সেটা মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন আমার কাছে)। এই বন্ধুদের বেশির ভাগ ডার্ক ম্যাটারের মত - ওজন বাড়ায় কিন্তু দেখা যায় না। একটা ব্যাপার খেয়াল করলাম ফেসবুক বন্ধুত্ব অনেক ক্ষেত্রেই প্রেম আর বিয়ের মত। ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে অনেকেই আপনার পোস্টে লাইক দিয়ে, কমেন্ট করে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করবে কিন্তু একবার কবুল বললে প্রেম হাওয়া, তাদের আর দেখা মিলবে না। অনেককেই দেখি এ নিয়ে মন খারাপ করতে – কেন শুধু শুধু বন্ধুত্বের বোঝা বয়ে বেড়ানো যদি তারা লাইক, কমেন্ট না করে। কিন্তু একটু খেয়াল করলে দেখা যাবে যারা এটা করে তাদের একটা বড় অংশ ঘনিষ্ঠ পরিচিত। আমার এক আপনভোলা রাশিয়াতুত ভাই (মানে রাশিয়ায় পড়াশুনা করেছে) আছে যে কিছুদিন পর পর একটা করে আইডি খোলে। সে জানে কিনা জানি না, তবে আমি জানি কেন। সে কখনই লগইন আর পাসওয়ার্ড মনে রাখে না, রাখতে পারে না। এমনকি মনে হয় সে যে ফেসবুকে একাউন্ট খুলেছে এটাও ভুলে যায়। তাই সে কিছুদিন পর পর রিকোয়েস্ট পাঠায়, আমি গ্রহণ করি। একদিন যখন দেখলাম ২৫ জন বন্ধুর জন্মদিন আর ২৫ জনের মধ্যে ১০ জনই সুখময় বিশ্বাস আমি বুঝলাম ঘটনাটা কি। পরে সব প্রোফাইলে গিয়ে দেখলাম ওপেন করার পর সেখানে তার কোন এক্টিভিটি ছিল না। অর্থাৎ ফেসবুক তার দরকার নেই, হয়তো বন্ধুদের কেউ বলায় খুলেছে। এরকম লোক আমার লিস্টে অনেক। যাদের আমি চিনি তাদের আনফ্রেন্ড করার প্রশ্ন আসে না, কারণ আমি নিজেও তাদের লিখি না, ফেসবুকে তাদের কোন পোস্ট দেখে খুশি হই এই ভেবে যে বন্ধুরা বহাল তবিয়তে আছে। ফেসবুক আমার জন্য শুধুই পরিচিতদের খোঁজ খবর পাওয়ার মাধ্যম, আর এ কারণেই আমি প্রতিদিন লিখি শুধু এটা জানাতে যে আমার হাত থেকে বন্ধুরা বা শত্রুরা খুব সহজে মুক্তি পাচ্ছে না।
আমি ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ করার আগে দেখি সে আমার পরিচিত কিনা, হলে কোথায়, কীভাবে, না হলে কমন পরিচিত কারা আর সবচেয়ে বড় কথা তার প্রোফাইলে সে কি লেখে, কি শেয়ার করে ইত্যাদি। তাই অনেকেই রিকোয়েস্ট পাঠালেও এবং রেগুলার আমার পোস্টে লাইক, কমেন্ট করলেও যখন দেখি তাদের প্রোফাইল লক করা – ইচ্ছে থাকলেও গ্রহণ করতে পারি না। জানি এটা তাদের দোষ না, ফেসবুক অনেক সময় এ ব্যাপারে উৎসাহী করে। তবে ফেসবুক যদি এই অপশন দিত যে কেউ ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালে যাকে পাঠাচ্ছে তার জন্য ঐ প্রোফাইল আনলক হবে তাহলে এসব সমস্যা এড়ানো যেত। যাহোক ফিরে আসি নীরব বন্ধুদের কথায়। অনেক সময় নীরবেরা সরবের চেয়ে অনেক বেশি স্বস্তির। তাছাড়া যখনই নীরব সরবের দাঁড়িপাল্লা নিয়ে বসব, দেখা যাবে প্রায়ই দ্বিধায় পড়তে হচ্ছে ঠিক কোথায় কমা বসাতে হবে (যারা রুশ জানেন তারা বুঝতে পারবেন – ফাঁসি দেয়া আর ক্ষমা করার সেই গল্প)। যে সিদ্ধান্তই নিই না কেন একটু দ্বিধা থেকেই যাবে। মাঝখান থেকে অনেক সময় নষ্ট হবে – যাকে বলে চোর বাছতে গাঁ উজাড়। তাই এসব নিয়ে ভাবি না, যদি কারও অধিকাংশ পোস্ট আমার কাছে রুচিসম্মত না হয় আনফলো করি, আনফলো করি তাদের যারা পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া করতে আসে। কেননা ফেসবুক আমার জন্য মূলত রিক্রিয়েশনের জন্য, নিজের কথা বন্ধুদের কাছে পৌঁছে দিতে। কাউকে কিছু প্রমাণ করার জন্য নয়, সে জন্য আলাদা প্ল্যাটফর্ম আছে। দুর্ভাগ্যবশত ফেসবুকে বউ/বর জাতীয় কেউ নেই যে মাঝেমধ্যে এসে আবর্জনার মত সব ঝেটিয়ে বিদায় করে দেবে। এটা হয়তো সৌভাগ্যই। তাই এসব নিয়ে না ভেবে নিজের মত করে চললেই হয়। কেউ সাড়া দিল কি দিল না এটা তাদের হাতে রেখে দিলেই ল্যাঠা চুকে যায়। বন্ধুত্ব যেন বোঝা না হয়, বন্ধুত্ব হোক পারস্পরিক বোঝাবুঝির ক্ষেত্র।
দুবনা, ১৯ নভেম্বর ২০২২
আজকাল ফেসবুকে আমার লিস্টে কয়েক হাজার বন্ধু (বান্ধবী কেন নয় সেটা মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন আমার কাছে)। এই বন্ধুদের বেশির ভাগ ডার্ক ম্যাটারের মত - ওজন বাড়ায় কিন্তু দেখা যায় না। একটা ব্যাপার খেয়াল করলাম ফেসবুক বন্ধুত্ব অনেক ক্ষেত্রেই প্রেম আর বিয়ের মত। ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে অনেকেই আপনার পোস্টে লাইক দিয়ে, কমেন্ট করে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করবে কিন্তু একবার কবুল বললে প্রেম হাওয়া, তাদের আর দেখা মিলবে না। অনেককেই দেখি এ নিয়ে মন খারাপ করতে – কেন শুধু শুধু বন্ধুত্বের বোঝা বয়ে বেড়ানো যদি তারা লাইক, কমেন্ট না করে। কিন্তু একটু খেয়াল করলে দেখা যাবে যারা এটা করে তাদের একটা বড় অংশ ঘনিষ্ঠ পরিচিত। আমার এক আপনভোলা রাশিয়াতুত ভাই (মানে রাশিয়ায় পড়াশুনা করেছে) আছে যে কিছুদিন পর পর একটা করে আইডি খোলে। সে জানে কিনা জানি না, তবে আমি জানি কেন। সে কখনই লগইন আর পাসওয়ার্ড মনে রাখে না, রাখতে পারে না। এমনকি মনে হয় সে যে ফেসবুকে একাউন্ট খুলেছে এটাও ভুলে যায়। তাই সে কিছুদিন পর পর রিকোয়েস্ট পাঠায়, আমি গ্রহণ করি। একদিন যখন দেখলাম ২৫ জন বন্ধুর জন্মদিন আর ২৫ জনের মধ্যে ১০ জনই সুখময় বিশ্বাস আমি বুঝলাম ঘটনাটা কি। পরে সব প্রোফাইলে গিয়ে দেখলাম ওপেন করার পর সেখানে তার কোন এক্টিভিটি ছিল না। অর্থাৎ ফেসবুক তার দরকার নেই, হয়তো বন্ধুদের কেউ বলায় খুলেছে। এরকম লোক আমার লিস্টে অনেক। যাদের আমি চিনি তাদের আনফ্রেন্ড করার প্রশ্ন আসে না, কারণ আমি নিজেও তাদের লিখি না, ফেসবুকে তাদের কোন পোস্ট দেখে খুশি হই এই ভেবে যে বন্ধুরা বহাল তবিয়তে আছে। ফেসবুক আমার জন্য শুধুই পরিচিতদের খোঁজ খবর পাওয়ার মাধ্যম, আর এ কারণেই আমি প্রতিদিন লিখি শুধু এটা জানাতে যে আমার হাত থেকে বন্ধুরা বা শত্রুরা খুব সহজে মুক্তি পাচ্ছে না।
আমি ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ করার আগে দেখি সে আমার পরিচিত কিনা, হলে কোথায়, কীভাবে, না হলে কমন পরিচিত কারা আর সবচেয়ে বড় কথা তার প্রোফাইলে সে কি লেখে, কি শেয়ার করে ইত্যাদি। তাই অনেকেই রিকোয়েস্ট পাঠালেও এবং রেগুলার আমার পোস্টে লাইক, কমেন্ট করলেও যখন দেখি তাদের প্রোফাইল লক করা – ইচ্ছে থাকলেও গ্রহণ করতে পারি না। জানি এটা তাদের দোষ না, ফেসবুক অনেক সময় এ ব্যাপারে উৎসাহী করে। তবে ফেসবুক যদি এই অপশন দিত যে কেউ ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালে যাকে পাঠাচ্ছে তার জন্য ঐ প্রোফাইল আনলক হবে তাহলে এসব সমস্যা এড়ানো যেত। যাহোক ফিরে আসি নীরব বন্ধুদের কথায়। অনেক সময় নীরবেরা সরবের চেয়ে অনেক বেশি স্বস্তির। তাছাড়া যখনই নীরব সরবের দাঁড়িপাল্লা নিয়ে বসব, দেখা যাবে প্রায়ই দ্বিধায় পড়তে হচ্ছে ঠিক কোথায় কমা বসাতে হবে (যারা রুশ জানেন তারা বুঝতে পারবেন – ফাঁসি দেয়া আর ক্ষমা করার সেই গল্প)। যে সিদ্ধান্তই নিই না কেন একটু দ্বিধা থেকেই যাবে। মাঝখান থেকে অনেক সময় নষ্ট হবে – যাকে বলে চোর বাছতে গাঁ উজাড়। তাই এসব নিয়ে ভাবি না, যদি কারও অধিকাংশ পোস্ট আমার কাছে রুচিসম্মত না হয় আনফলো করি, আনফলো করি তাদের যারা পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া করতে আসে। কেননা ফেসবুক আমার জন্য মূলত রিক্রিয়েশনের জন্য, নিজের কথা বন্ধুদের কাছে পৌঁছে দিতে। কাউকে কিছু প্রমাণ করার জন্য নয়, সে জন্য আলাদা প্ল্যাটফর্ম আছে। দুর্ভাগ্যবশত ফেসবুকে বউ/বর জাতীয় কেউ নেই যে মাঝেমধ্যে এসে আবর্জনার মত সব ঝেটিয়ে বিদায় করে দেবে। এটা হয়তো সৌভাগ্যই। তাই এসব নিয়ে না ভেবে নিজের মত করে চললেই হয়। কেউ সাড়া দিল কি দিল না এটা তাদের হাতে রেখে দিলেই ল্যাঠা চুকে যায়। বন্ধুত্ব যেন বোঝা না হয়, বন্ধুত্ব হোক পারস্পরিক বোঝাবুঝির ক্ষেত্র।
দুবনা, ১৯ নভেম্বর ২০২২


Comments
Post a Comment