ঠিকানা বদল
মস্কো গেলে সবচেয়ে কম কথা হয় ক্রিস্টিনার সাথে। ও হয় বাইরে থাকে নয়তো ঘুমায়। বাসায় একমাত্র ওই নিজের ঘরের দরোজা ভেতর থেকে বন্ধ করে রাখে। ওর জন্যে খাবার রেডি করে বসে থাকি। আসি আসছি করতে করতে ঘণ্টা কাটিয়ে দেয়। তবে কখনও সখনও দোকানে যায় আমার সাথে। সেভাকে টাকা দিই, তাই ও নিজেই কেনাকাটা করে। তবে আমি মস্কো এলে নিজেই যেতে চায়। তাতে ওর টাকাটা বেঁচে যায়। মনিকা কেনাকাটা করে অনলাইনে। যেহেতু ওদের খাবার দাবারের মেন্যু একেক রকম তাই খুব কমই সবাই মিলে একসাথে খায়। যে যার মত রান্না করে খেয়ে ফেলে। ক্রিস্টিনা পছন্দ করে টিনের খাবার, স্যান্ডুইচ এসব।
ক্রিস্টিনার সাথে বাইরে গেলে বিভিন্ন বিষয়ে কথা হয়। এবারের কথার মূল বিষয় ছিল ওর পরবর্তী কাজকর্ম। মিউজিক কলেজ শেষ করে কয়েক বছর বেশ নাম করা একটা কালেক্টিভে গান গাইত। মাঝে মধ্যে গির্জায় গায়। গত বছর বলেছিল গিতিসে ভর্তি হবে। এটা রাশিয়ার থিয়েটার শিল্পের অন্যতম প্রধান শিক্ষা কেন্দ্র। পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছিল। তবে ডকুমেন্ট জমা দিতে দেরী করায় ভর্তি হতে পারেনি। এবার নিজে থেকেই সাঙ্কত পিতেরবুরগ ভর্তি হবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গেরৎসিন মিউজিক ইনস্টিটিউতে পড়বে। পরীক্ষা দিয়েছে। রেজাল্ট খারাপ নয়, তবে চান্স পেল কিনা সেটা জানা যাবে কয়েকদিন পরে।
এই প্রথম বলল, এবার যদি চান্স না পায় মিউজিক ছেড়ে দেবে। কোরাসে আর গাইতে চায় না, সেখানে নাকি খুব বেশি কিছু করার তেমন সম্ভাবনা নেই। বয়স হয়ে যাচ্ছে। ইত্যাদি ইত্যাদি, আমি শুনি আর হাসি। এতগুলো ছেলেমেয়ের বাবা হয়েও আমার নিজেকে বয়স্ক মনে হয় না। আর ওদের নাকি বয়স হয়ে যাচ্ছে।
ও ইদানীং মডেলিং করে। না, টাকা নেয় না। তবে অনেক নামকরা ফটোগ্রাফারের সাথে কাজ করে। সৌখিন। এটাকে এখনও পেশা হিসেবে নিতে চায় না।
পিতেরে তো গান গেয়ে ইনকাম করতে পারব না, ভাবছি কিছু মডেলিং করব।
তুই ওখানে ভাল করে পড়াশুনা চালিয়ে যা। আমরা তো আছিই। মডেলিঙের চিন্তা পরে করলেও পারবি।
আমি মনোযোগ দিয়ে পড়াশুনা করব। তারপরেও চেষ্টা করব কোন কাজ করতে। ওখানে হয়তো গির্জায় গান করা যাবে না।
ঠিক আছে।
পরদিন সকালে ও যখন কাজে যাবে বললাম
দুটো ছবি তুলব?
ক্রিস্টিনা বরাবরই ছবি তুলতে পছন্দ করে। ছোটবেলা থেকেই। রাজি হল। তবে কাজে লেট হবে বলে বলল
মাত্র পাঁচ মিনিট সময় দিতে পারব।
এর মধ্যে রেজাল্ট জানা গেছে। ক্রিস্টিনা পিতেরে ভর্তি হয়েছে। মস্কো ছেড়ে চলে যাবে। কী আর করা। যদিও ওরা মস্কোয় আর আমরা দুবনা থাকি, মস্কো কখনও দূরে মনে হয় না। পিতেরও অবশ্য খুব দূরের পথ নয়, কয়েক ঘণ্টার রাস্তা। মনিকা বলেছে ক্রিস্টিনা ওখানে গেলেই ও যাবে কয়েকদিন ওর সাথে কাটাতে। গুলিয়াও মাঝে মাঝে যাবে বলে ঠিক করেছে। অবশ্য ও যখন দুবনা আসে তখনও বলেছিল প্রতি সপ্তাহে মস্কো গিয়ে ওদের জন্য রান্না করবে, সাহায্য করবে। সেটা কখনোই বাস্তবায়িত হয়নি। কুকুর বাহিনী নিয়েই দিন কেটে গেছে। তবে ও যদি পিতেরে যেতে চায়, কুকুরের সংখ্যা কমাতে হবে, কেননা আন্তন বার বার ছুটি নিয়ে আসবে না। তাই আমি সেই আশাতেই বসে আছি।





Comments
Post a Comment