কী করিতে হইবে

প্রতিটি মানুষের বিভিন্ন রকমের দুর্বলতা থাকে। আমার দুর্বলতা অবশ্য অসংখ্য। শারীরিক দুর্বলতা থেকে শুরু করে কোথায় গিয়ে যে এর শেষ হয়েছে তা কে জানে? অনেক দুর্বলতার একটা নাম মনে রাখতে না পারা। বাসায় অনেকগুলো কুকুর, গুলিয়া প্রায়ই কোন না কোন কুকুরের কথা জিজ্ঞেস করে কিন্তু নাম না জানায় পড়ি বিপদে। একই ঘটনা ক্লাসে। ছাত্ররা যদি আমার পরীক্ষা নিত আর নাম জানতে চাইত - জীবনে কোন দিন আর পাশ করা হত না। এর মূল কারণ মনে হয় আমি সবকিছু মনে রাখি গাণিতিক উপায়ে। যেমন অংক বা পদার্থবিজ্ঞানের কিছু বেসিক জিনিস মনে রেখে লজিক বা এনালাইসের মাধ্যমে অন্য কিছু বের করা। কিন্তু নামের ক্ষেত্রে এরকম লজিক কাজ করে না। তাই যত সমস্যা। 

অনেক আগে আমার এক বন্ধু একজনের মৃত্যু সংবাদ দিল। আমি জানতাম, যে মারা গেছে তাঁকে আমি চিনি, তবে নাম না জানায় মনে করতে পারছিলাম না ঠিক কে মারা গেল। সে সময় আমরা প্রায়ই দীর্ঘ সময়ের জন্য বাইরে যেতাম গবেষণার কাজে। ফলে সেই সময় যারা বাইরে ছিল তাদের সবাই আমার কাছে মৃত মনে হতে শুরু করে। শুধু দুবনায় ফিরে এলে বুঝতাম সে এখনও জীবিত। এক বছর পরে সেই লোকের স্মরণ সভায় ছবি দেখে বুঝলাম ওর সাথে আমি প্রায়ই গল্প করতে করতে বাসায় ফিরতাম রাতের বেলায়। 

যাহোক, কাজের সুত্রে বিভিন্ন ইনস্টিটিউট থেকে বিভিন্ন লোকের জন্য রিকমেন্ডেশন চায়। আগে যাদের দরকার তারাই যোগাযোগ করত, এখন ওরা নাম দিয়ে দেয় আর ইনস্টিটিউট আমাদের সাথে যোগাযোগ করে। সকালে দেখি ব্রাটান্ড নামে একজন আমাকে রেফার করেছে রিকমেন্ডেশনের জন্য। আমি কিছুইতেই মনে করতে পারছি না সে কে? আমার ছাত্র ছিল? বা কোথাও দেখা বা কথা হয়েছে? এক কথায় - এখন দোদুল্যমান অবস্থায় আছি কি করব ভেবে? কারণ না জেনে কাউকে রিকমান্ড করা ঠিক নয়। আবার তাকে যে জানি না সে ব্যাপারেও আমি নিশ্চিত নই।

মস্কোর পথে, ২২ মার্চ ২০২৬

Comments

Popular Posts