আমার সোমবার

প্রায় তিন মাস পর ক্লাস শুরু হল। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি শেষ ক্লাস নেই। মাঝে পরীক্ষা, শীতের ছুটি ও প্র্যাকটিক্যাল। ক্লাস শুরু হয়েছে অবশ্য গত সোমবার থেকে, তবে ২৩ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটি থাকায় আমার শুরু এই সোমবার। 

ক্লাস মানে ছাত্রদের সাথে বকবক করা আর মাঝেমধ্যে জিজ্ঞেস করা বুঝতে পারছে কিনা। যখন এটা জিজ্ঞেস করি তখন সুধীর দার কথা মনে হয়। সুধীর দা প্রায়ই জিজ্ঞেস করত - বুঝতে পারলে? ওরা ঘাড় নেড়ে উত্তর দেয় বুঝেছে যদিও আমি ঠিক নিশ্চিত হতে পারি না। 

যেহেতু দুবনা থেকে আসি তাই সব কাজ একদিনেই সারতে হয়। আগের বিকেলে মনিকা আর সেভার সাথে কিছুটা সময় কাটাই। বেশি সময় দিতে হয় তাইনাকে। ও সেভার কুকুর, তবে আমি এলে ওর আমার পিছু ছাড়ে না, ঘুমায় আমায় সাথে, পা টিপে দেয়। সোমবার সারাদিন ক্লাস। সকালে ৯ টা থেকে ১২ পর্যন্ত কোয়ান্টাম মেকানিক্স। মাঝে দেড় ঘণ্টা ব্রেক। ঐ সময়টা আমার ব্যাচেলর, মাস্টার্স আর পিএইচডি স্টুডেন্টরা আসে। দেড়টা থেকে সাড়ে চারটা পর্যন্ত ইলেক্ট্রো ডাইনামিকস। 

এরপর সবচেয়ে মজার সময়। ডিপার্টমেন্টের সেমিনার। মূলতঃ আমার আগ্রহে করা। তাও এই উপলক্ষ্যে আমার শিক্ষকদের সাথে দেখা করার জন্য। এখন মস্কোর বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের অনেকেই আসেন। ফলে সাইন্টিফিক রিপোর্টের পাশাপাশি বন্ধুদের মিলন। শেষ চা পান। সাথে অবশ্য কনিয়াক, ভোদকা, ওয়াইন, স্যান্ডউইচ এসব থাকে। আর থাকে খোলামেলা আলোচনা, স্মৃতিচারণ। তবে আমার শেষ পর্যন্ত থাকা হয় না। সেভা, মনিকা অপেক্ষা করে। বাসায় ফিরে হালকা কিছু খেয়ে দুবনার পথে বেরিয়ে পড়ি। বাসায় যখন পৌঁছি মধ্যরাত পেরিয়ে যায়। এখন দুবনার ট্রেনে বসে বসে ভাবছি সারাদিনে কি কি করা হল না।

দুবনার পথে, ০২ মার্চ ২০২৬

Comments

Popular Posts