এক টুকরো জীবন
গতকাল মস্কো এলাম দুই সপ্তাহ গ্যাপের পর। এখন ভার্সিটি ছুটি। তাই আসার তাড়া নেই। প্ল্যান ছিল ৬ বা ৭ তারিখে আসব গণ মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে। কিন্তু অমল বলল আগে থেকেই ইনভাইটেশন কার্ড কালেক্ট করতে হবে। তাই আসা।
এর আগে কথা দিয়েও সেভার সাথে ঘুরতে যেতে পারিনি। তাই বাসায় এসেই বললাম
- ঘুরতে যাবি?
- এখন না।
- যদি যাস আমি অপেক্ষা করব। নাহলে নিজেই হাঁটতে যাব।
কিছুক্ষণ পরে সেভা বলল
- আমার খুব খিদে পেয়েছে।
মনিকা বা ক্রিস্টিনা হলে বলতাম চল বাইরে থেকে খেয়ে আসি। সেভা বাইরের খাবার পছন্দ করে না।
- রান্না করব?
- কর।
রান্না বসালাম। সেভা আলু কাটল। আমি মাংস আর ভাত। কিছুক্ষণ পরে টের পেলাম মাংসের বারোটা বাজতে চলছে। কথায় আছে ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে। আমিও স্থান-কাল-পাত্র নির্বিশেষে সব সময়ই খাবার পুড়িয়ে ফেলি। একটু খারাপ লাগল। তবে সেভা, মনিকা ও মিশা বলল টেস্টি হয়েছে।
সেভা বাইরে কোথায় যেন চলে গেল। আমিও হাঁটতে বেরুলাম। পথে ডিম, রুটি এসব কিনে বাসায় ঢুকছি সিঁড়ির উপর থেকে একজন বলল
- শুভ সন্ধ্যা!
- শুভ সন্ধ্যা!
- আপনার মেয়ে কেমন আছে?
- ভালো।
- আমি ওর জন্য একটা উপহার কিনেছি নববর্ষ উপলক্ষ্যে।
- আচ্ছা।
- আমি এখানেই তিন তলায় থাকি। কীভাবে যে দেই। দরজার টোকা দেয়া যায়। কিন্তু ওর যদি বন্ধু থাকে তাহলে!
- ওর বন্ধু আছে।
ছেলেটি আর কথা না বাড়িয়ে চলে গেল। আমি ঘরে ঢুকে মনিকাকে বললাম
- তিন তলার ছেলেটা তোর জন্য উপহার কিনেছে। আমি বললাম তোর বন্ধু আছে। ও বেজার হয়ে চলে গেল।
- পাপা তুমি ভুলে যাও কেন তোমার আরও একটা মেয়ে আছে?
- তাই তো আমি ক্রিস্টিনার কথা একেবারেই ভুলে গেছিলাম।
এমন সময় মিশা বেরিয়ে এল। ও দরজায় দাঁড়িয়ে ঐ ছেলের সাথে আমার কথোপকথন শুনেছে।
- আপনি কজটা ঠিক করেন নাই। একটা উপহার হাতছাড়া হয়ে গেল।
কিছুক্ষণ হাসাহাসি করে আমি আর মনিকা গেলাম হাঁটতে। ও জুলিয়েন তৈরি করবে। তার জন্য কিছু ইনগ্রেডিয়েন্ট দরকার।
দুবনার পথে, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

Comments
Post a Comment