৬ সেপ্টেম্বর
জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি কূল কিনারাহীন সবুজ সাগর যেখানে হলুদ কমলা লাল রঙের ঢেউয়েরা মনের আনন্দের লুটোপুটি খাচ্ছে। বিভিন্ন বই পড়ে মস্কো বা রাশিয়া সম্পর্কে যে ধারণা গড়ে উঠেছিল তাতে এখানে সাদার সমাহার থাকবে বলেই আশা করেছিলাম, তাই যখন চোখের সামনে এত রঙ বেরঙের ডালি নিয়ে প্রকৃতি উপস্থিত হল সেটা ছিল কল্পনাতীত। আগের সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে যখন উড়াল দিই তখন নীচে ছিল শুধু জল আর জল, মাঝে মধ্যে দ্বীপের মত দুই একটা গ্রাম। বর্ষার বিষণ্ণ আকাশ বিদায় বেলায় আমার মনকেও বিষণ্ণ করে তুলেছিল। সেখানে মস্কো যেন উৎসবের সাজে সেজে আমাদের বরণ করে নিল। বাড়ি থেকে বিদায় নেবার কষ্ট যেন আমাদের ভুলিয়ে দিত চাইছিল রাশিয়ার প্রকৃতি। সেই বিমানে আমরা অনেকেই ছিলাম। আমার পাশের সিটে ছিল ইকবাল, দীপঙ্কর ব্যানারজী ছিল সামনে অথবা পেছনে। ওদের দুজনের কথাই শুধু মনে আছে। ওরা মস্কো থেকে রোস্তভ চলে গেছিল। আমরা পাঁচ জন – আনোয়ার, জালাল, মফিজ, শুভ আর আমি – রওনা হয়েছিলাম প্যাট্রিসের পথে। মলয় দা তখন সেখানকার ছাত্র সংগঠনের সভাপতি। আরও এসেছিলেন মাহমুদ ভাই। আরও অনেকেই ছিল। সারা রাস্তা গল্প করতে করতে আর গান গাইতে গাইতে সবুজ বনের বুক চিরে চলে যাওয়া রাস্তা আমাদের পৌঁছে দিয়েছিল নতুন ঠিকানায় – যার নাম মিকলুখো মাকলায়া। এটা ছিল মঙ্গলবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮৩। দেখতে দেখতে চল্লিশ বছর কেটে গেল। আমাদের ওয়ান ওয়ে টিকেট দিয়ে পাঠিয়েছিল, আজ পর্যন্ত আর রিটার্ন টিকেটটা হাতে পেলাম না।
দুবনা, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩
ফটো - সাশা কুলদশিন, অব্রাজ, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩
দুবনা, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩
ফটো - সাশা কুলদশিন, অব্রাজ, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩



Comments
Post a Comment