শান্তি
গতকাল থেকেই মাথা ব্যথা। কাঁধের উপর মাথা থাকার এই এক সমস্যা। প্রেসার নর্মাল। আবহাওয়ার বিরূপ প্রতিক্রিয়া। রাতে তাই ভালো ঘুম হল না। সকালে এক বন্ধুর সাথে দেখা করে ক্লাস নিতে গেলাম। বাসা থেকে প্রস্তুতি নিয়েই বেরোলাম যে খুব খারাপ লাগলে কনসাল্টেশন ক্যান্সেল করে সোজা দুবনা চলে যাব।
ক্লাস নেয়া বা অন্য কাজে ব্যস্ত থাকলে মাথা ব্যথার কথা বেমালুম ভুলে যাই। তাই কিভাবে এক টানা ৫ ঘন্টা কেটে গেল টেরই পাইনি। ইতিমধ্যে দুবনার বাস চলে গেছে। দেখি মনিকার মেসেজ - রুটি, পেঁয়াজ এসব কেনার জন্য। এর মধ্যে ব্যথাটা বাইরে থেকে হাওয়া খেয়ে আবার মাথায় ঢুকে পড়েছে। সেভাকে ফোন করলাম
পাপ প্রিভিয়েত। তুমি কিছু চাইছিলে?
মাথাটা ব্যথা করছে। তুই লুঝনিকির ওখানে চলে আয়। লেনতায় কি কি যেন কিনতে হবে। মনিকা লিখেছে।
ঠিক আছে।
সেন্ট্রাল রিং থেকে বেরিয়ে যাচ্ছি লেনতার দিকে। হঠাৎ মনে পড়লো সেভাকে আসতে বলেছি। ফোন করলাম
সেভা তুই কোথায়?
আমি স্টেশনের বাইরে তোমার জন্য দাঁড়িয়ে আছি।
আমি ভাবলাম তুই লেনতার ওখানে অপেক্ষা করবি। আমি চলে এসেছি। তুই এদিকে চলে আয়।
আসছি।
মিথ্যা বললাম। আমি ওর কথা ভুলেই গেছিলাম। যাকগে, টুকিটাকি জিনিসপত্র কিনে বাসায় ফিরলাম। বেশ ক্ষিদে পেয়েছে।
সেভা আমাকে একটু ডিম ভেজে দিবি?
দিচ্ছি।
আলু সেদ্ধ করা ছিল। সেভা অমলেট করল। সাথে সালাদ।
আজকাল খুব ভালো লাগে ওদের কাছে এরকম ছোটখাটো আবদার করতে আর ওদের ছোটখাটো আবদার পালন করতে।
খেয়ে একটু রেস্ট নিয়ে দুবনার পথে নামলাম। ওরা ভাই-বোন দরোজায় দাঁড়িয়ে বিদায় জানালো। এটাই মনে হয় শান্তি।
দুবনার পথে, ২৭ মার্চ ২০২৩

Comments
Post a Comment