বেশ কিছুদিন আগেই খেয়াল করলাম যে আমার সাইকেলটা ট্যারা চোখা, সব সময় একটু ডান দিকে তাকিয়ে চলে। বাম পন্থায় বিশ্বাসী বিধায় বামে তাকালে হয়তো তেমন কিছু একটা মাইন্ড করতাম না। কিন্তু ডান দিকে তাকানো? রাম রাম! তাই কদিন আগে ভাবলাম ওর চোখের ব্যামোটা সারিয়ে আনি। তেমন কিছু না, একটা হেক্সাগন দরকার। আমারই আছে। অনেক চেষ্টা করেও কিছু হল না বরং হেক্সাগনটাই একটু ব্যথা পেল।
আজ যখন অফিসে আসব দেখলাম বাসার সামনেই এক ভদ্রলোক তার ছেলের সাইকেল ঠিক করছেন। মনে হয় আমাদের বাড়ির বাসিন্দা অথবা সামারে এসেছেন, আগে খেয়াল করিনি।
শুভ সকাল!
শুভ সকাল!
আপনার হেক্সাগন আছে? সাইকেলের হ্যান্ডেলটা একটু ঠিক করা দরকার।
উনি গাড়ি থেকে একটা চাকু বের করে দিলেন, আসলে চাকু নয়, ওতে বিভিন্ন রকম স্ক্রু ড্রাইভার।
এটা দিয়ে চেষ্টা করুন।
বেশ কিছুক্ষণ চেষ্টা করেও সফল না হয়ে বললাম
হচ্ছে না। মনে হয় তেল লাগাতে হবে।
(বাঙালি তেল ছাড়া কিছু বোঝে না কিনা)।
দাঁড়ান দেখছি।
বলেই ও ১০ সেকেন্ডের মধ্যে নাট খুলে দিল। আমিও বুঝলাম হাতুড়ি, বাটাল বা আর যাই থাকুক না কেন যদি পর্যাপ্ত শক্তি শরীরে না থাকে এসবই মাঠে মারা যায়।
ধন্যবাদ।
বলে আমি হ্যান্ডেল্টা সোজা করতে লেগে গেলাম। করে ওনাকে চাকুটা ফিরিয়ে দিতে গেলে বললেন
মনে হয় পুরোপুরি ঠিক হয়নি। আমি করে দিচ্ছি।
বোঝা গেল শুধু সাইকেল নয় আমি নিজেও রীতিমত ট্যারা চোখা।
ভদ্রলোককে ধন্যবাদ জানিয়ে আমি গায়ে হাওয়া লাগাতে লাগাতে অফিসের দিকে প্যাডেল মারলাম।
আমার না যদি থাকে সুর
তোমার আছে তুমি তা দেবে
আমার গন্ধ হারা ফুল
তোমার কাছে সুরভি নেবে
এরই নাম জীবন
দুবনা, ১০ জুন ২০২২
Comments
Post a Comment