পথ, পথ্য, পাথেয়

ছোটবেলায় কোন অসুখ বিসুখ হলে ডাক্তাররা পথ্য দিতেন। দুনিয়ার সবচেয়ে বাজে খাবার থাকত সেই সমস্ত পথ্যের তালিকায়। এখনও ডাক্তাররা আমাকে পথ্য দেন, তবে পথ্য না বলে তার প্রতিদ্বন্দ্বী বলা যায়। মানে দেশের ডাক্তাররা যদি কী খাওয়া যাবে তার তালিকা দিতেন এখানে কী খাওয়া যাবেনা তার লিস্ট ধরিয়ে দেন। সেদিন ডাক্তার এরকম একটা লিস্ট হাতে দিলে জিজ্ঞেস করলাম
তারচেয়ে বলুন কী খাওয়া যাবে?
এগুলো বাদে সব। 
সমস্যা তো ওখানেই। এসব বাদ দিলে খাওয়ার মত আর কিছুই থাকে না। 
যেমন?
আমার দুপুরের খাবার বিভিন্ন রকমের বাদাম। সেটা নিষেধ। 
ওতে প্রচুর ফ্যাট আর প্রোটিন। 
মদ, চা, কফি নিষেধ। কিন্তু আমি পান করি শুধু চা। (বললাম না যে আমি জল খাই না)
কমাতে হবে আর হালকা চা খেতে হবে চিনি ছাড়া। 

দেখলাম ওনার সাথে কথা বলে লাভ নেই। অবাক হলাম এই ভেবে এই ডাক্তাররা কিভাবে যেন আমার প্রিয় খাবারের মেন্যুটা যোগাড় করে ফেলেন আর মেন্যু ধরে ধরে প্রিয় খাবারগুলো কেটে দেন। মনে পড়ল সোভিয়েত এক জোকের কথা। ভভা গেছে পার্টিতে যোগ দিতে

পার্টি করতে চাও কেন?
দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করব ঠিক করেছি।
মদ খাওয়া চলবে না। পারবে?
খুব পারব। 
মেয়েদের সাথে মেলামেশা চলবে না। পারবে?
পারব না মানে?
জিনস ও অন্যান্য বিদেশি জিনিসের প্রতি লোভী হলে চলবে না। পারবে লোভ সামলাতে?
অবশ্যই পারব। 
এরপরও তুমি দেশের জন্য আত্মত্যাগে রাজি?
রাজি কারণ ত্যাগ করা ছাড়া ঐ জীবন দিয়ে করার কিছু থাকবে না। 

ডাক্তারদের হাজারো নিষেধাজ্ঞা দেখে মনে হয় কি হবে চিকিৎসা করে? সব প্রিয় খাবারদের নির্বাসনে পাঠিয়ে নিজেকেই তো অনাহারে মরতে হবে।

মস্কো, ০৬ জূন ২০২২



Comments

Popular Posts