গল্প
ছোটবেলায় মা অনেক শাস্তর শোনাতেন। শাস্তর মানে শাস্ত্র। সন্ধ্যার দিকে আমাদের বা বড়দার বারান্দায়। বিশেষ করে শীত কালে আগুন পোহাতে পোহাতে রামায়ণ, মহাভারত বা লক্ষ্মীর পাঁচালী শোনা আর রাতে লেপের নীচে শুয়ে অন্য গল্প। তখনও দেশ স্বাধীন হয়নি, রুশ দেশের উপকথা বাড়িতে আসেনি, তারপরেও মার মুখে সেখানকার অনেক গল্পই শুনেছি।
এসব গল্প ছিল মূলত রাজা বাদশাহদের ঘিরে। রাজা মানেই খামখেয়ালী মানুষ। একবার তাঁর মনে কি ইচ্ছে হল, ডাকলেন মন্ত্রী মশাইকে
- মন্ত্রী, আলসেমি, এটাও তো একটা কাজ, ঠিক কিনা?
- ঠিক, ঠিক মহারাজ!
- যদি ঠিক হয়, অলসদের বেতন দেওয়া হয় না কেন?
- আজ্ঞে মহারাজ, আগে তো সেটা ভেবে দেখিনি। যদি আজ্ঞা করেন তাহলে ব্যবস্থা করব।
- সেটা তো করতেই হবে। তাঁর আগে জানা দরকার অলস কারা।
- তাতে কোন ত্রুটি হবে না মহারাজ। আগামীকালই সারা রাজ্যে ঢোল পিটিয়ে দেব।
যথাবিধি ঢোল বাজলো। রাজ্যের লোকেরা এই সুযোগ ছাড়বে কেন? দলে দলে লোক এসে জড়ো হল বেতনের জন্য। তবে তার আগে অলসতার পরীক্ষা পর্ব। বিশাল এক তাঁবুর নীচে দিন কাটাচ্ছে রাজ্যের লোক। খায় দায়, ঘুরে বেড়ায়। কাজকর্ম নেই। অলস তো সবাই। কাজ আবার কি? এভাবে দিন দিন রাজকোষ উজার হয়ে যায়। কিন্তু কে যে সত্যিকার অলস আর কে ভেকধারী সেটা জানা যায় না।
- মন্ত্রী এভাবে চললে তো রাজকোষ শূন্য হয়ে যাবে। তখন উপায়?
- কিছু একটা করতে হবে নকল অলস থেকে আসল অলসদের বেঁছে বের করতে।
- সে তো বুঝলাম। কিন্তু কী করা?
- সভা ডাকা দরকার। পণ্ডিতদের ডাক।
- ওরাও তো অলস সেজেছে।
- আজ্ঞে মহারাজ!
- এখন উপায়?
- মহারাজ, যদি কিছু মনে না করেন তাহলে বলব।
- বল।
- তাঁবুতে আগুন লাগিয়ে দিতে হবে রাত্রে।
- মাথা খারাপ? যদি মরে যায়?
- মরলে মরবে সত্যিকারের অলসেরা। বাকিরা দেখবেন সবাই পালিয়েছে। সত্যিকারের অলসদের আমি সৈন্য নিয়ে বের করে আনব।
- যা ভাল মনে কর। দেখো, প্রজাদের মধ্যে বিদ্রোহ হলে কিন্তু তোমার গর্দান থাকবে না।
- আজ্ঞে মহারাজ!
রাতে তাঁবুতে আগুন লাগলো। চারিদিকে চিৎকার চেঁচামিচি। সবাই যে যেদিকে পারে পালাচ্ছে। শুধু চারজন লোক তাঁবুর নীচে শুয়ে কি যেন বলছে। মন্ত্রী এগিয়ে গেলেন সৈন্যদের নিয়ে ওরা কি বলছে শোনার জন্য
প্রথম জন - কত রবি জ্বলে রে?
দ্বিতীয় জন - কে বা আঁখি মেলে রে?
তৃতীয় জন - পি পু (এত অলস যে পিঠ পুড়ছে বলতে আলসেমি)
চতুর্থ জন - ঘু শু (ঘুরে শু)
ইউরেকা, ইউরেকা বলে মন্ত্রী সৈন্যদের আদেশ দিলেন এই চার জনকে রাজার সামনে হাজির করতে।
- মাহারাজ, এই চার জনই হল সত্যিকারের অলস। এদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করতে পারেন।
দেশে দেশে এখন ধার্মিকের অভাব নেই। সবাই ধার্মিক। কিন্তু এই ধার্মিকদের মধ্য থেকে কে আসল কে নকল কীভাবে জানা যায়?
একটা উপাসনালয় গড়ে সাইনবোর্ড টানিয়ে দেয়া
"যারা ঘুষ খায় না, ঘুষ দেয় না, দুর্নীতি করে না, পরমতসহিষ্ণু - শুমুধাত্র তারাই এখানে প্রবেশ করতে পারবেন।"
ভেতরে থাকবে পলিগ্রাফ।


Comments
Post a Comment