জন্মদিন

 

সকালে ঘুম ভাঙল মেসেজ আসার শব্দে। ফোনটা টেনে নিয়ে দেখি তিন তিনটে মেসেজ - সেভা, মনিকা আর ক্রিস্টিনার কাছ থেকে আমাদের ফামিলি গ্রুপে।
শুভ জন্মদিন মাম।
তিনটে আইডেন্টিক্যাল মেসেজ।
আমিও অটোম্যাটিক্যালি শুভ জন্মদিন মাম লিখে পোস্ট করব তখনই মনে হল - মাম তো ওদের। তাহলে কি আমার শুভ জন্মদিন বৌ লেখা দরকার? সেটাও কেমন যেন বিচ্ছিরি ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। তাই মাম কেটে শুধু শুভ জন্মদিন লিখেই শুয়ে পড়লাম। আমি অবশ্য চাইলে পাশে শোয়া বউকে মুখেই শুভ জন্মদিন বলতে পারতাম, তবে সেটা ঠিক আধুনিক হত না, তাছাড়া চাইলে পরে আরেকবার অভিনন্দন জানানো যায়। শুভেচ্ছা জানাতে তো আর পয়সা লাগে না।
কিছুক্ষণ পরে মনিকার মেসেজ, পাপ, আমি কেক অর্ডার দিয়েছি। কিছুক্ষণ পরে আসবে। দরজা খুলে নিয়ে নিও। আসলে আমি নিজেই ওকে বলতে চাইছিলাম কেক অর্ডার দিতে। ভালই হল ও নিজে থেকেই পাঠাল।
আরও কিছুক্ষণ পরে কেক এলো। গুলিয়ার প্রিয় কেক - কিয়েভস্কি। খুব খুশি। আমি অবশ্য টিপ্পনী কাটলাম - "দেখ, যুদ্ধে হয়তো কিয়েভস্কি কেক আর আগের মত নেই।" সেটা কানে না তুলে ও বলল "এখন তুমি একটা ভাল ওয়াইন আনলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।"
আমিও অবশ্য সেটা ভেবেছিলাম, তবে আজ নয় আগামীকাল। কাল ভোরে আমার কিছু কাজ আছে, তাই আগামী কাল ওয়াইনটা হলে আমার জন্য সুবিধা। না না, মাতাল হবার প্রশ্ন নেই। কিছু টেস্ট দিতে হবে। তাই শুচি থাকার ইচ্ছে। এই আর কি।
কিছুক্ষণ আগে ক্রিস্টিনা লিখল টেস্টি কিছু খেতে ইচ্ছে করছে। আমাদের কারও জন্মদিন থাকলে আমি ওদের বলি ছোট করে হলেও একসাথে বসে তা পালন করার জন্য। স্বপনদা কোলকাতা চলে যায় আমার ছ মাস বয়সে। কয়েক বছর পরে কল্যাণ দা। কিন্তু মা সব সময়ই সবার জন্মদিন উপলক্ষ্যে পোলাও মাংসের ব্যবস্থা করতেন। কেউ থাক বা নাই থাক আমরা তো আছি। জানি না এ জন্যেই কিনা, কিন্তু আমি এই প্রথাটা চালু রাখার চেষ্টা করি। তাই আগে যদি সবাই মিলে কারও জন্মদিন পালন করতাম, এখন সেটা হয় কয়েক জায়গায়। তাছাড়া বাচ্চাদের জন্মদিনে গুলিয়ার কেক চাইই চাই। ওর ধারণা ও একাই ওদের জন্ম দিয়েছে, কেক ওরই প্রাপ্য। আমি ফাও।

ওয়াইনটা অবশ্য কিনতেই হবে। নাহলে নাকি আমার উপর স্যাঙ্কশন আরোপ করবে। 

দুবনা, ০৬ এপ্রিল ২০২২ 
 

 

Comments

Popular Posts