ঈর্ষা
আমার দোষ ত্রুটির শেষ নেই, তবে ঈর্ষা নামক বিষয়টি আমার মধ্যে অনুপস্থিত বলতে পারি। কারণ অন্যের কিছু আছে বলে আমার থাকতে হবে সেই নীতিতে আমি বিশ্বাস করি না, যদি কোন কিছু নিজের জন্য প্রয়োজনীয় মনে করি তাহলে সেটা পাওয়ার চেষ্টা করি। সেই অর্থে অনেক কিছু পাওয়ার লোভ আছে কিন্তু ঈর্ষা নেই। তবে গতকাল গণ মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৬ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠানে গিয়ে সত্যি সত্যি ঈর্ষান্বিত হয়েছি।
এখন শীত কাল। মাথাটা তাই টুপির ভেতর লুকিয়ে রাখতে হয়। আমার সম্পদ বলতে তো মাথার ঐ ছটাক খানি ঘিলু। সেটাও যদি ঠান্ডায় জমে যায় তাহলে তো বৌ বাচ্চা নিয়ে মাঠে মারা যাব।
যাহোক অনুষ্ঠানে গিয়ে শীতের পোষাক রেখে হলে ঢোকার আগে ওয়াশ রুমে গেলাম মস্তিষ্কের বিকৃতির লেভেল চেক করতে। যা ভাবা। টুপির হাত থেকে মুক্তি পেয়ে চুলগুলো সজারুর কাঁটার মত দাঁড়িয়ে আছে। ভাবলাম জল দিয়ে ওদের ঘুম পাড়াই। হঠাৎ আয়নায় ভেসে উঠলো আরেকটি মুখ। মাথাটা চকচক করছে। একটিও চুল নেই বিদ্রোহ করার মত। জীবনে প্রথমবারের মত কারোও টাক দেখে এতটা ঈর্ষান্বিত হলাম।
ঘুম থেকে উঠেই ভাবলাম এর একটা বিহিত করতে হবে। কী করা? চুল বিক্রি করতে গেলাম। ওটা আমি মাঝে মাঝেই করি। বার্টার সিস্টেম। ওদের আমি চুল দেব, তবে ওদের সুন্দর করে কেটে নিতে হবে। চুলের দাম ও চুল কাটার চার্জের পার্থক্যটা মিটিয়ে দিলেই গেল খতম। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে আমার চুলের দাম কখনোই ওদের কাটিং চার্জকে ছাড়িয়ে যেতে পারে না। চেয়ারে বসতেই মেয়েটি বলে উঠল
- জানি জানি, কান খোলা, যতদূর সম্ভব ছোট তবে যেন চুলরা মাথায় দাঁড়িয়ে না থাকে।
- ঠিক। ঠিক।
শরতের পাতার মত আমার চুলগুলো ঝরে পড়তে শুরু করল। আমি নিজের ভাবনায় ডুবে গেলাম।
- পছন্দ হয়?
- তোমার?
- খুব ভালো লাগছে।
চেয়ার থেকে উঠে জ্যাকেট গায়ে দিতে দিতে বলল
- ৭০০ রুবল।
টাকাটা দিয়ে বাসায় ফিরতে ফিরতে ভাবলাম চুলের দাম কমল নাকি চার্জ বাড়ল। দিন দিন মানুষের দাম যেভাবে কমছে তাতে চুলের দাম বাড়বে কীভাবে?
দুবনা, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Comments
Post a Comment