গণ মৈত্রীর ৬৬
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ গণ মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৬ বছর পূর্ণ হল আর সেই উপলক্ষ্যে ৬ ফেব্রুয়ারি এর গ্র্যাজুয়েটরা এক সাথে মিলিত হল। প্রতি ৫ বছরে এই মিলন হয় ক্রেমলিনের কংগ্রেস হলে যদিও ২৫ বছর পূর্তি পালিত হয়েছিল হোটেল রাশিয়ায়। এখন হোটেল রাশিয়া, সোভিয়েত ইউনিয়ন সবই ইতিহাস। কথায় বলে সেই রামও নেই, সেই অযোধ্যাও নেই। তারপরেও জন্মদিন মানেই পুরানো দিনের কথা স্মরণ করা, বন্ধুদের খোঁজ নেয়া। তাই আজকাল এমন অনুষ্ঠানে যাই, যাই মূলত সেই সময়ের পরিচিত মুখের খোঁজে।
সোভিয়েত আমলের অনুষ্ঠান ছিল অন্যরকম, আজকের মত জাঁকজমকপূর্ণ নয়। অবশ্য টেকনোলজি এখানে বিরাট ভূমিকা রেখেছে। তাছাড়া এখন শোডাউনের সাথে কমার্শিয়াল স্বাস্থ্য জড়িত। সেটাও কাজ করে।
কর্তৃপক্ষের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের পর ছিল গ্র্যাজুয়েটদের বক্তব্য ও পুরস্কার বিতরণ। এখন প্রতিবারই কর্মক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য কিছু কিছু শিক্ষক ও কর্মচারীদের পুরস্কৃত করা হয়। এবার ১৯৮৮ সালে পড়তে আসা মীজানের মেয়ে আলেক্সান্দ্রা পুরস্কার পেল দেখে খুশি লাগল।
প্যাট্রিসের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বরাবরই দেখার মত। শতাধিক দেশ ও জাতির সংস্কৃতির এক মিলন মেলা। এশিয়া, আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা - কোন দেশ নেই।
আমাদের সময়ে বাংলাদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা, চিলি, সিরিয়া, জর্ডান এসব দেশের গ্রূপের গান, নাইজেরিয়া, লেবানন, সাইপ্রাস, পেরুর গ্রূপের নাচ ছিল আকর্ষণীয় আইটেম। আমি নিজেও কোরাস বাংলাদেশের সদস্য হিসেবে বহু অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি। এবার বাংলাদেশের কোন গ্রূপ না দেখে মনটা একটু খারাপই হল। তবে সেটা সার্বিক অনুষ্ঠানে কোন প্রভাব ফেলেনি।
সব শেষে ছিল পান ভোজনের বিশাল আয়োজন। তবে পান ভোজনে, বিশেষ করে পানের জন্য কোম্পানি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই ভীড়ে সবাই ব্যস্ত নিজের নিজের ক্লাসমেটদের নিয়ে। তাই ১৯-২২ পর্যন্ত হেঁসেল কাজ করলেও আমি আট টার আগেই বেরিয়ে পড়লাম যাতে রাত দশটার দুবনার ট্রেন মিস না করি।
দুবনার পথে, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Comments
Post a Comment