মাসুদ

বাসায় এসে চা খাচ্ছি এমন সময় মাসুদের ফোন এল।
দেখা করব আজ?
সেভাকে বলেছিলাম যাব বরভিয়ে গোরি ঘুরতে। তবে সেটা পরেও যাওয়া যাবে। তাই বললাম 
চল।
কোথায় দেখা করব?

মাসুদ আমার ইয়ারমেট। ১৯৮৩ সালে আমরা এদেশে আসি। তবে ও প্রিপারেটরি করে ৎবিলিসিতে। ১৯৮৪ সালে মস্কো আসে মিসিতে। আমাদের যে ট্র্যাডিশনাল সার্কেল ছিল মাসুদ তার অংশ ছিল না। তবে প্রথম থেকেই আমাদের মধ্যে এক বন্ধুত্বের রসায়ন গড়ে ওঠে। এখন মস্কোয় অবস্থানরত আমার ইয়ারমেটদের মধ্যে একমাত্র ওর সাথে যোগাযোগ ও দেখা সাক্ষাৎ হয়। আমাদের কথা ছিল সন্ধ্যার পর দেখা করে রাতের ছবি তোলা। গত সপ্তাহে সেটা করার কথা ছিল। স্পোর্তিভনায়ায় দেখা করে হাঁটতে হাঁটতে কিয়েভস্কায়া হয়ে মস্কভা সিটি যাওয়া, ছবি তোলা আর তারপর কোথাও বসে খাওয়া দাওয়া করা। কিন্তু গত সপ্তাহে মাসুদ অসুস্থ থাকায় আমি সেভাকে নিয়ে এসব জায়গায় ছবি তুলেছি। আজ মনিকা ক্যামেরা আনতে বলেছিল। তবে রোদ ছুটি নিয়েছে বলে ক্যামেরা আনিনি। 
শোন আমি আজ ক্যামেরা আনিনি। চল সেন্টারে ঘুরি।
তাহলে আজ বাদ দেই।
মাসুদ জানে আমার বাইরে যাওয়া মানেই ছবি তোলা।
কোন সমস্যা নেই। কুজনেযৎস্কি মস্ত আয়। ওখান মার্খির আশেপাশে ঘুরে রেড স্কয়ারের দিকে যাব।
২৬ মার্চের পর এই প্রথম আমাদের দেখা। কথা ছিল সামারে দেখা করা। কিন্তু সময় করে উঠতে পারিনি। দেখা হলে বললাম 
বুড়ো হয়ে যাচ্ছি।
হঠাৎ?
ছাত্র জীবনে এখানে বান্ধবীদের সাথে ডেট করতাম। এখন তোর সাথে করছি। তবে এখনকার ট্রেন্ড অনুযায়ী আমরা বরং খুবই আধুনিক।
কোন দিকে যাব?
চল আগে মার্খির দিকে যাই। তারপর উল্টা দিকে। 
বেরিয়ে দুটো সেলফি নিলাম।
বুঝলি ছবি না হলে আজকাল গল্প জমে না।
আমিও ছবি তুলব। নতুন ফোন টেস্ট করব। তুই ঘুরবি আর ছবি তুলবি না এটা অবিশ্বাস্য। তাই আমিও রেডি হয়ে এসেছি। 
হাঁটতে হাঁটতে গেলাম সেন্ট্রাল বাজার পর্যন্ত। এটা ত্রুবনায়ায়। রাস্তায় তুললাম ছবি। নিলাম ভিডিও। ক্যামেরা না থাকায় একটু খারাপ লাগল। পরে উল্টো দিকে ফিরে এলাম দেতস্কি মির বা বাচ্চাদের দোকানে। আমরা যখন সোভিয়েত ইউনিয়নে আসি তখন দোকানে আমাদের মাপের জামাকাপড় পাওয়া ছিল কষ্টসাধ্য। এখানেই আমার মত অনেকেই জামাকাপড় কিনতাম। শেষ এসেছি ছেলেমেয়েরা ছোট থাকতে। কত যে বদলে গেছে সব। এরপর সেখান থেকে বেরিয়ে গেলাম ত্ভেরস্কায়ার দিকে। পথে পড়ল হোটেল মেট্রোপোল, মালি ও বলশই থিয়েটার, ৎসুম, গস দুমা, দূরে ক্রেমলিন, মখাত মানে একাডেমী থিয়েটার, সেন্ট্রাল টেলিগ্রাফ। পাশেই ভ্কুসনা ই তোচকা বা সাবেক ম্যাকডোনাল্ডসে ঢুকে খেলাম দুজন। এবার গল্পের সময়।
মাসুদের সাথে গল্প মানেই মিউজিক, সিনেমা, ফিলোসফি, রাজনীতি, টেকনোলজি ইত্যাদি নিয়ে কথা। আমরা সব সময় একমত হতে পারি না, তবে দ্বিমত থাকলেও সেটা আমাদের সম্পর্কে প্রভাব ফেলে না। আসলে নিজের মত নির্দ্বিধায় বলা আর তা সহচরের উপর চাপিয়ে না দেয়ার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে বন্ধুত্বের বিকাশ ও স্থায়িত্ব।

মস্কো, ২৭ অক্টোবর ২০২৭


দেতস্কি মির

উলিৎসা রোঝদেস্তভেনকা 

Comments

Popular Posts