আইসক্রিম
অনেক দিন পরে দীর্ঘ সফরে মস্কো এলাম গতকাল। শুক্রবার পর্যন্ত প্রতিদিন কোন না কোন কাজ আছে। হতে পারে আরও দু দিন থেকে সোমবার ক্লাস নিয়ে ফিরে যাব। আজ ক্লাস শেষে ভার্সিটি থেকে বেরিয়ে মনিকার কাছে জানতে চাইলাম কিছু কিনতে হবে কিনা। ও ফর্দ পাঠাল আর লিখল লেনতা সুপার মার্কেট থেকে কিনতে। সেভাকে বললাম দোকানে এসে সব নিতে। আমি এসে পে করে একসাথে বাসায় যাব। সেভা বা আন্তন সাথে থাকলে আমাকে কিছু টানতে দেয় না। পিঠটা একটু বিশ্রাম পায়। মনিকা, ক্রিস্টিনা আর গুলিয়া থাকলে আমরা ভাগাভাগি করে নেই। দোকানে গিয়ে দেখি সেভা কমবেশি সব নিয়েছে। ক্যাশে টাকা দিয়ে বেরুনোর সময় সেভা আমার দিকে একটা আইসক্রিম বাড়িয়ে দিল
খাবে?
দে।
আমি আইসক্রিম বরাবরই পছন্দ করি। স্কুলে দুই পকেট ভরে গোটা দশেক আইসক্রিম কিনে বাড়ির দিকে হাঁটতে শুরু করতাম। বাড়ি এক মাইল দূরে। মাঝ পথেই সব শেষ। মালাইওয়ালা আমাদের বাড়িতে আসত জ্যাঠামশায়ের বকা উপেক্ষা করে। ইন্টারেস্টিং, তার নাম কখনোই জানা হয়নি।
তোর আইসক্রিম কোথায়?
আমি একটাই নিয়েছিলাম।
তাহলে আমাকে দিলি কেন?
বারে। তুমি খেতে চাইলে।
একটা কিনে নিয়ে আয়।
কোন দরকার নেই।
সেভা যখন ছোট ছিল দোকানে গিয়ে জুস বা আইসক্রিম নিয়ে খেতে শুরু করত। ওকে সবাই চিনত। আমি গিয়ে পয়সা দিয়ে ওকে নিয়ে বাসায় ফিরতাম বা ঘুরতে যেতাম। ও খাচ্ছে। আমি ব্যাগ হাতে পাশাপাশি হাঁটছি। সেভা এখন আমার চেয়েও অনেক লম্বা। ও ব্যাগ হাতে হাঁটছে। আমি পাশে পাশে যাচ্ছি আইসক্রিম খেতে খেতে। পুরনো দিনের কথা মনে করে বর্তমানকে বেশ উপভোগ করলাম। ওকে স্কুলের গল্প বললাম। বললাম মালাইওয়ালার কথা। বাড়ির কথা। আমরাও ছোটবেলায় খুব পছন্দ করতাম বাবা মার ছোটবেলার গল্প শুনতে।
মস্কো, ৩০ মে ২০২২

Comments
Post a Comment