পিতের


সেভা পিতের গেল। ক্রিস্টিনার ওখানে। সেপ্টেম্বরে ক্রিস্টিনা পিতের চলে যাওয়ার পর থেকে ছেলেমেয়েদের এক নতুন গন্তব্য হয়েছে - সাঙ্কত পিতেরবুরগ। বিভিন্ন কারণে ক্রিস্টিনার যেতে যেতে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি। প্রথমে হোস্টেল দেওয়ার কথা থাকলেও পরে সেটা পায়নি। তাই বাসা দরকার। বাসা দরকার মেট্রোর আশেপাশে আবার অল্প পয়সায়। বলতে গেলে অসম্ভব কাজ। আমি তখন ভোলগা ট্রিপে। তবে আন্তন, মনিকা, সেভা - সবাই নেমে পড়ল। আমরা যখন গত জানুয়ারিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ছিলাম তখনও ওরা সবাই এককাট্টা হয়ে আমাদের সাহস জুগিয়েছে। এবার ক্রিস্টিনার বেলায়ও সেটাই দেখলাম। শেষ পর্যন্ত বাসা পেল সেপ্টেম্বরের ১৫ তারিখে।
প্রথম মাস খানেক কেউ যেতে পারেনি। ওর অনেক জিনিস মস্কোয় রেখে গেছে। কথা ছিল আমি যাব, জিনিসপত্র দিয়ে আসব আর ওকে নিয়ে সেই সোনালী শরতে কোথাও যাব ছবি তুলতে (আসলে ছবি তোলা ছাড়া আমি কোথাও যাওয়ার কথা ভাবতেই পারি না)। কিন্তু সময় বের করতে করতে আন্তন একদিন কাজ থেকে ছুটি নিয়ে সেভাকে সাথে করে নিজেই চলে গেল ক্রিস্টিনার জিনিসপত্র সহ। আরও কিছুদিন পরে গেল মনিকা। এবারও সেভাকে সাথে করে। গতকাল সকালে সেভা বলল ও টিকেট কিনেছে, পিতের যাবে। বললাম, তোরা না এক সপ্তাহ পরে ওর জন্মদিনে যাবি, আজ আবার কেন? না, কাজ আছে, ঘুরে আসি। কে জানে, হয়তো অন্য সময় গেলে কারও সাথে যেতে হয়, তাই এই একা যাওয়ার বায়না। ট্রেন ছিল রাতে। সকাল ৯ টার দিকে যখন জানাল ও ক্রিস্টিনার ওখানে দুশ্চিন্তা (আসলে আমার মনেই ছিল না যে সেভা চলে গেছে) মুক্ত হলাম।
যখন নিজের যাওয়ার কথা মনে হয়, তখন হাজারটা অজুহাত চলে আসে। কী দরকার অযথা টাকা খরচ করে, সেটা বরং ক্রিস্টিনাকে পাঠানোই তো ভাল। তবে এটা ঠিক, ছেলেমেয়েরা যখন যায় ওদের সাহায্য করি। তাই এটা কোন ফ্যাক্টর নয়। তবে দেখলাম, আমি যদি যাই - সেটা হবে অনেকটা ফর্মাল দেখা করা, হয়তো কোথায় একসাথে খাওয়া, একটু ঘোরা। ছবি তোলা, কথার ফাঁকে ফাঁকে বই পড়া বা ক্লাসের কথা ভাবা। কিন্তু ছেলেমেয়েরা, বিশেষ করে মনিকা আর সেভা যখন যায় তখন ওরা সত্যি সত্যিই শুধু ক্রিস্টিনার কাছেই যায়, ওর কোম্পানি এঞ্জয় করে। সারাদিন হৈ হুল্লোড়, ক্যাফে বা বারে সময় কাটানো (আমি প্রতিবারই বলেছি কোন রেস্টুরেন্টে গিয়ে খেতে, ওরা সেটা করে না), ছবি তোলা। সেদিক থেকে ওদের নিয়ে ক্রিস্টিনা যতটা আনন্দ করতে পারে, যতটা ফুর্তি করে সময় কাটাতে পারে আমার বা গুলিয়ার সাথে হয়তো সেটা হত না।
তবে ও অবশ্য ইদানীং প্রায়ই ফোন করে। ক্রিস্টিনা আর মনিকা দুজনেই। অনেক কথা বলে। অনেক সময় আমার বিরক্তই লাগে এত সময় ধরে অকারণে কথা বলতে। আসলে একটা বয়সে ছেলেমেয়েদের খুব দরকার হয় বাবা মার সাথে কথা বলার, কি বলছে সেটা নয়, শুধুই বলার জন্য। আর বাবা মা যে ওদের শুনছে, ওদের কথার গুরুত্ব দিচ্ছে সেটাই ওদের জন্য অনেক।
দুবনা, ০১ ডিসেম্বর ২০২১ 
 
 
নভেম্বরের ৮ তারিখে পিতেরে মনিকা, ক্রিস্টিনা আর সেভা (ডান দিক থেকে)
 

 




Comments

Popular Posts