সেলিব্রিটি

গত রোববার সকালে গুলিয়া ক্রিমিয়া গেল সমুদ্র স্নানে আমাকে কুকুরের সর্দার হিসেবে নিয়োগ দিয়ে। অবশ্য এটা তেমন কোন সমস্যা না। তবে সেটা আমার জন্য সত্য হলেও কুকুরদের জন্য কতটুকু সত্য সেটা বলতে পারব না। সোমবার সকালে মনে পড়ল গতকাল ওদের জল বদলানো হয়নি আর খাবার দেয়া হয়নি। তবে খাবার ওদের প্রচুর দেয়া থাকে, তাই জলটা বদলানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একসময় খেয়াল করলাম একটা কুকুরের নাম মনে করতে পারছি না। গুলিয়া জানিয়ে দিল। ওদের নাম ধরে না ডাকলে নাকি বুনো হয়ে যায়।ভাগ্যিস আন্তন বিকেলে এসে ওদের দেখাশোনা করে তাই রক্ষা। আমি বরাবরের মতই অফিসে যাই আর বাসায় ফিরতে দেরী করি। ওরা ভাগ্যিস গুড বয়ের মত চুপচাপ অপেক্ষা করে। আন্তন রাজী না হলে গুলিয়া আমাকে এই দায়িত্ব দিত না। গুলিয়া বাসায় থাকলে ওদের যন্ত্রণায় বাসায় টেকা মুস্কিল। ও না থাকলে সবাই সারাদিন ঘুমায় অথবা দরজার কাছে বসে ওর অপেক্ষা করে। মনিকার বিড়ালও ও বাইরে গেলে জানালার পাশে বসে থাকে যতক্ষণ না মনিকা বাসায় ফেরে। 

শনিবার গেলাম বনে ঘুরতে। এই গ্রীষ্মে একবারও যাওয়া হয়নি। ও প্রচন্ড টেনশনে ভুগছিল যদি ক্রিমিয়ার ব্রিজে ইউক্রেন রকেট হামলা করে। কি আর করা। বললাম দেখ ক্রিমিয়ার ব্রিজে ইউক্রেনের রকেট হামলায় মরার সৌভাগ্য সবার হয় না। চল একটা সেলফি তুলে রাখি যাতে আমিও সেলিব্রিটি হতে পারি। আগে আমার এসব কথা শুনে ও হৈচৈ করত। এখন কোন কথা না বলে ছবি তুলতে দিল। বুঝে গেছে আমাকে কোন ভাবেই সংশোধন করা যাবে না। ও ইতিমধ্যে ভালোভাবে ফেওদোসিয়া পৌঁছে গেছে। ওখান থেকে ছবি আর ভিডিও পাঠাচ্ছে। তবে আগামী রোববার আবার ক্রিমিয়ার ব্রিজ পাড়ি দিতে হবে। তাই আমার সেলিব্রিটি হবার সম্ভাবনা এখনও উড়ে যায়নি।

দুবনা, ২০ আগস্ট ২০২৪

Comments

Popular Posts